লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া অভিযোগ করেছেন যে, বিরোধী দলগুলো দেশকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ রাখতে চায়। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মী ও অতিথিদের সামনে তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলো কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা দাবির ভিত্তিতে রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে, তা স্পষ্ট নয়।

বিরোধী দলের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করে আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, "আমাদের দায়িত্ব গ্রহণের বয়স মাত্র ছয়-সাত মাস। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি, আর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘদিনের জমে থাকা নানা সমস্যা বিদ্যমান। আমরা যেন মাত্র একটি জীর্ণ ঘরে প্রবেশ করেছি; এখন এই ঘরটি মেরামত করতে কাঠমিস্ত্রি, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং টাইলস মিস্ত্রি প্রয়োজন। সবকিছু পুনরায় ঠিকঠাক করতে স্বাভাবিকভাবেই সময়ের প্রয়োজন হয়। অথচ কাজ শুরু করার আগেই লংমার্চের ডাক দেওয়া হয়েছে। আমাদের কাজ করার জন্য ন্যূনতম সময় দেওয়া হবে না—এটি অত্যন্ত আশ্চর্যজনক এবং অগ্রহণযোগ্য ব্যাপার।"

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিরোধী দলের দাবিগুলোর কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই এবং তাদের আন্দোলনের প্রকৃত উদ্দেশ্য অস্পষ্ট। তাঁর মতে, এই দলগুলো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, বরং বহিঃশক্তির প্ররোচনা বা বাইরের কোনো এজেন্ডার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করে। সেই নির্দিষ্ট এজেন্ডার মাধ্যমেই তারা এ দেশকে আজীবন দাসত্বের অন্ধকারে রাখতে চায় বলে তিনি দাবি করেন।

বিগত শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে এই সংসদ সদস্য বলেন, অতীতে দেশে অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছিল, যা রাষ্ট্রকাঠামোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বর্তমানে আমলাতন্ত্রকে পুনরায় নিয়মের আওতায় এনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে এই দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগছে। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত কাজ না হওয়ায় অনেকে বিড়ম্বনা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যার ফলে জনগণের মাঝে আগের মতো ক্ষোভ রয়ে গেছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ধীরে ধীরে এই ক্ষোভ প্রশমিত হবে এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান আসবে।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপির সভাপতিত্বে এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মহসিন কবির স্বপনের সঞ্চালনায় এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ প্রফেসর ননী গোপাল ঘোষ, আবুল মোবারক ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সদস্য দেলোয়ার হোসেন, আব্দুর রব শামীম এবং জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সোহেল আদনানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।