তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের দেওয়া অঙ্গীকারের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায় সাধারণ মানুষ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন। বিমানবন্দরের সামনে সংক্ষিপ্ত আলাপ শেষে তিনি বন্যাকবলিত বাঁশখালী উপজেলার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে জামায়াতের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গত অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে ইতিবাচক অঙ্গীকার জানানো হয়েছে। এখন সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সঠিক সময়। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অবগত আছি যে এটি একটি অত্যন্ত বৃহৎ প্রকল্প এবং এর পূর্ণ বাস্তবায়ন হতে সময় প্রয়োজন। তবে সরকার যদি আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে, তবে সেই অগ্রগতির ছাপ দৃশ্যমান হওয়া উচিত। সাধারণ জনগণ সেটিই প্রত্যাশা করে।’

এদিকে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হওয়া সত্ত্বেও সামান্য বৃষ্টি হলেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। শহরের নালা-নর্দমা উপচে পড়ার ফলে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। এই সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান করা সম্পূর্ণ সরকারের দায়িত্ব।’

রাজনৈতিক দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, জনগণের সমস্যাগুলো সরকারের নজরে আনা রাজনৈতিক দলগুলোর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ‘আমরা সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছি। একই সঙ্গে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আজ বাঁশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে যাচ্ছি,’ বলে তিনি জানান।