বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর ঘিরে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে, যা কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার দুপুর দুইটার দিকে রাষ্ট্রপতি ভবনের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছিল যে, একজন সম্মানিত রাষ্ট্রীয় অতিথির অভ্যর্থনার চূড়ান্ত মহড়ার কারণে আগামী শনিবার নির্ধারিত ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে না। তবে এই বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের খুব অল্প সময়ের মধ্যেই, অর্থাৎ বেলা তিনটার দিকে রাষ্ট্রপতি কার্যালয় থেকে পাঠানো এক নতুন বার্তার মাধ্যমে ওই প্রেস রিলিজটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই হাই-প্রোফাইল সফর নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চলছে। তবে আলোচনা চলমান থাকলেও, এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করা হয়নি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নয়াদিল্লি বা ঢাকা—কোনো পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফর সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এর আগে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছিল যে, আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে এই সফরটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে গত ১৬ আগস্ট বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৫ আগস্টের সংবাদ সম্মেলনের উপস্থিতির কারণে এই সফর সংক্রান্ত আলোচনায় কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে প্রক্রিয়াটি কিছুটা ধীর হয়ে গিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ভবনের ওই বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার চূড়ান্ত মহড়ার কারণে আগামী শনিবার (২২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে চেঞ্জ অব গার্ড অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে না। কিন্তু এক ঘণ্টা পরেই রাষ্ট্রপতি কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ২১ আগস্ট চলতি শনিবার চেঞ্জ অব গার্ড অনুষ্ঠান হবে না শিরোনামে যে প্রেস রিলিজটি দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হলো।

ভারতে রাষ্ট্রীয় সফরে আসা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান এবং উচ্চপদস্থ অতিথিদের সম্মানে রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে অত্যন্ত জমকালো এবং ঐতিহ্যবাহী সামরিক ও কূটনৈতিক প্রথা মেনে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান, উভয় দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরিচয় পর্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। এই মূল অনুষ্ঠানের ঠিক একদিন আগে একটি পূর্ণাঙ্গ মহড়া বা ‘ফুল ড্রেস রিহার্সাল’ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, যাতে সবকিছুর নিখুঁত সমন্বয় নিশ্চিত করা যায়। সবশেষে সফররত রাষ্ট্রনেতার সম্মানে রাষ্ট্রপতি ভবনে একটি রাজকীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এই পুরো ঘটনার সূত্র হিসেবে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনকে উল্লেখ করা হয়েছে।