মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা আপিলের সুযোগ পাবেন কি না, তা সম্পূর্ণ প্রচলিত আইন ও আইনি বিধিবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের মধ্যে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চব্বিশের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার আইনি ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। বিশেষ করে তিনি দেশে ফিরলে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে নাকি তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন—এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দেশজুড়ে নানা ধরনের আলোচনা ও আইনি ব্যাখ্যা প্রচলিত রয়েছে। সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান যে, তিনি যদি দেশে ফিরে আসেন এবং আপিল করতে চান, তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ীই বিষয়টি নির্ধারিত হবে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির আপিল করার আইনি অধিকার আছে কি না, সেটি ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করার বিষয় নয়। বরং বিদ্যমান দেশের প্রচলিত আইন এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তা যথাযথভাবে নির্ধারণ করা হবে।
একই সঙ্গে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজেশন প্রকল্পের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে আইনমন্ত্রী বলেন, এই পুরো নিবন্ধন ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজ করার ফলে শুধু বাল্যবিয়ে প্রতিরোধই নয়, বরং অবৈধ বহুবিবাহ এবং বিয়ে সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি ও কারচুপি রোধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে একজন ব্যক্তির বর্তমান বৈবাহিক অবস্থার তথ্য অত্যন্ত সহজে এবং দ্রুত যাচাই করা যাবে, যা আইনি জটিলতা কমাতে সহায়ক হবে।















