চট্টগ্রাম-ঢাকা রেলপথে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এই ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন।
সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বেলা সাড়ে তিনটায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর একটি অন্যতম প্রধান অংশ হলো ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া।
এই বিশাল প্রকল্পের আওতায় টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্যদিকে, টঙ্গী-আখাউড়া ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের ডিপিপি (DDP) প্রণয়নের কাজও এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা রেল করিডোরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং ট্রেনের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
পাশাপাশি, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের দূরত্ব আরও কমিয়ে আনতে ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত একটি কর্ডলাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যকার ভৌগোলিক দূরত্ব কমে আসবে এবং ট্রেনের গড় গতি বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে যাত্রীরা অত্যন্ত অল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন।
ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের নিমিত্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।" তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পরপরই বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে। অর্থায়ন পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে আধুনিক ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এতে ট্রেনের গড় গতি যেমন বাড়বে, তেমনি যাত্রীদের যাতায়াতের সময়ও অনেক কমে আসবে।" এই আধুনিকায়ন ব্যবস্থা দেশের যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।















