ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে নজর কেড়েছিলেন পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ব্যাটার শান মাসুদ। তবে সেই ব্যক্তিগত সাফল্য শেষ পর্যন্ত দলের জন্য সুখকর হয়ে থাকেনি, বরং মাসুদের জন্য বয়ে এনেছে বড় দুঃসংবাদ। বাঁ হাতের তর্জনীতে গুরুতর চোট পাওয়ায় সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী মাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজে তার অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
বৃহস্পতিবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাসুদের বাঁ হাতের তর্জনীর স্ক্যান এবং বিস্তারিত মেডিকেল পরীক্ষায় সেখানে ফাটল বা ফ্র্যাকচার ধরা পড়েছে। এই গুরুতর চোটের কারণে রবিবার পোর্ট অব স্পেনে শুরু হতে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাকে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
ঘটনার সূত্রপাত ত্রিনিদাদে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে। ব্যাটিং করার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার জেডেন সিলসের একটি দ্রুতগতির বল সরাসরি মাসুদের আঙুলে আঘাত হানে। প্রচণ্ড ব্যথার মধ্যেও দমে যাননি মাসুদ। অদম্য মানসিক শক্তির পরিচয় দিয়ে তিনি ব্যাটিং চালিয়ে যান এবং ক্যারিয়ারের সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরিটি পূর্ণ করেন। তবে মাসুদের এই ব্যক্তিগত বীরত্ব দলকে পরাজয় থেকে রক্ষা করতে পারেনি। ব্রায়ান লারা ক্রিকেট একাডেমির মাঠে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৯০ রানের বড় ব্যবধানে হার মেনে নিতে হয় পাকিস্তানকে।
চোটের প্রভাব ম্যাচের শেষ দিকে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চতুর্থ দিনের সকালে তীব্র ব্যথার কারণে তিনি মাঠে নামতে পারেননি। পরবর্তীতে ২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান যখন মাত্র ৫৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম সংকটে, তখন অষ্টম ব্যাটার হিসেবে তাকে ব্যাটিং করতে নামতে হয়। কিন্তু বাঁ হাতের আঙুলে চাপ দিতে না পারায় কার্যত এক হাতেই ব্যাটিং করার চেষ্টা করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৩ রান করে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান মাসুদ।
মাসুদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ঠিক কতদিন সময় লাগবে, সে বিষয়ে পিসিবি এখনই কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেনি। তবে বোর্ড স্পষ্ট করেছে যে, আগামী ১৯ আগস্ট লিডসে শুরু হতে যাওয়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তার খেলা নির্ভর করবে চোট থেকে সেরে ওঠার গতির ওপর। অর্থাৎ, ইংল্যান্ড সফরের শুরুতেই তিনি মাঠে নামতে পারবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়ে গেছে।
যদিও দ্বিতীয় টেস্টে তিনি খেলতে পারবেন না, তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের বাকি সময় তিনি দলের সঙ্গেই থাকবেন। এরপর ইংল্যান্ড সফরেও তার ভ্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চালানো যায়।
মাসুদের অনুপস্থিতিতে দ্বিতীয় টেস্টের একাদশে কার জায়গা হবে, তা নিয়ে এখন চলছে আলোচনা। প্রথম টেস্টের আগে কোমরের নিচের অংশে চোট পেয়ে আবদুল্লাহ ফজল ছিটকে যাওয়ায় স্কোয়াডে যোগ দিয়েছেন আবদুল্লাহ শফিক ও সৌদ শাকিল। বর্তমানে এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার একাদশে ফেরার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া স্কোয়াডে আছেন তরুণ ডানহাতি মিডল-অর্ডার ব্যাটার আওয়াইস জাফর, যার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনো অভিষেক হয়নি।
প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি করেও দলের পরাজয় ঠেকাতে পারেননি শান মাসুদ। এখন সেই ম্যাচের চোটই তাকে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট থেকে দূরে সরিয়ে দিল। ইংল্যান্ড সফরের আগে পাকিস্তানের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা, কারণ দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য ব্যাটারের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার ওপর এখন তাকিয়ে আছে নির্বাচক কমিটি ও টিম ম্যানেজমেন্ট।











