টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করতে আর মাত্র পাঁচটি উইকেটের অপেক্ষা অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ফাস্ট বোলার জশ হ্যাজলউডের। তবে সামনে আগামী ১২ মাসে ২১টি টেস্ট ম্যাচের এক ঠাসা সূচি। এই ব্যস্ত সময়ের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের সামগ্রিক সাফল্যের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এই পেসার। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অস্ট্রেলিয়ার ট্রেনিং ক্যাম্প চলাকালীন সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি নিজের এই দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানান।
হ্যামস্ট্রিং এবং পেশির গুরুতর চোটের কারণে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর টেস্ট ক্রিকেটের আঙিনা থেকে দূরে ছিলেন হ্যাজলউড। ইনজুরির এই দীর্ঘ সময়টি তার ক্যারিয়ারের জন্য ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, যার ফলে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ অ্যাশেজ সিরিজ থেকেও তাকে ছিটকে যেতে হয়েছিল। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে আবারও মাঠে নামার কথা রয়েছে তার। এই ম্যাচে যদি তিনি কাঙ্ক্ষিত পাঁচটি উইকেট শিকার করতে পারেন, তবে তিনি পৌঁছে যাবেন ৩০০ উইকেটের ক্লাবে। এর মাধ্যমে তিনি অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ডেনিস লিলি, গ্লেন ম্যাকগ্রা, ব্রেট লি, মিচেল জনসন, মিচেল স্টার্ক এবং প্যাট কামিন্সের মতো সেরাদের কাতারে নাম লিখিয়ে নেবেন।
তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের লক্ষ্যকে প্রাধান্য দিয়ে হ্যাজলউড জানান, ইংল্যান্ড, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরই হবে আগামী দিনগুলোতে দলের মূল বোলিং আক্রমণের জন্য সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা এবং চালিকাশক্তি। নিজের মানসিকতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, খেলাধুলার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের কথা খুব বেশি চিন্তা করলে তা অনেক সময় হিতে বিপরীত হতে পারে। আমি সবসময়ই বর্তমান মুহূর্তকে গুরুত্ব দিয়েছি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমি ঠিক সেভাবেই এগোচ্ছি; ধাপে ধাপে ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণ করছি এবং শরীরের প্রয়োজনীয় ওয়ার্কলোড বা অনুশীলনের মাত্রা ঠিক রাখার চেষ্টা করছি। আগামী সপ্তাহে প্রস্তুতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার করব; এরপর সব ঠিকঠাক থাকলে তবেই ডারউইনের কথা ভাবব। তাই বাকি সবকিছু নিয়ে এখনই তাড়াহুড়ো করার সময় আসেনি। পরিস্থিতি অনুযায়ী ধীরলয়ে এগোতেই চাই।”
এই ফাস্ট বোলার আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান অস্ট্রেলীয় দল দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে খেলছে, বিশেষ করে দলের মূল অংশটি বেশ সংহতিপূর্ণ। সামনের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “ইংল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে সিরিজগুলো নিঃসন্দেহে অনেক বড় এবং কঠিন। দক্ষিণ আফ্রিকাতেও আমার জয়ের অভিজ্ঞতা নেই, তাই সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। শুধু আমার জন্য নয়, পুরো দলের জন্যই সেখানে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করার বিষয় রয়েছে।” নিজের প্রস্তুতির বিষয়ে এই পেসার আরও বলেন, “প্রস্তুতির সময় এমনকি এর আগের মাসগুলোতেও এই বড় সিরিজগুলোর কথা আমাদের মনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ এবং সবগুলোই প্রতিপক্ষের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে, তাই লড়াইটা হবে অত্যন্ত কঠিন। আশা করি আমরা সফল হব।”
আগামী এক বছরে ২১টি টেস্ট ম্যাচ খেলার যে পরিকল্পনা অস্ট্রেলিয়ার রয়েছে, তাতে শারীরিক ও মানসিক চাপ সামলানো হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই সময়ে সতীর্থ ফাস্ট বোলার স্কট বোল্যান্ডের সঙ্গে একসঙ্গে খেলার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন হ্যাজলউড। অ্যাশেজ সিরিজে হ্যাজলউডের অনুপস্থিতিতে বোল্যান্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি স্কটির সঙ্গে আরও বেশি খেলতে চাই। আমাদের বোলিং শৈলীতে কিছু মিল থাকলেও, আমার মনে হয় আমাদের মধ্যে অনেক মৌলিক পার্থক্যও রয়েছে। যখনই সে দলে সুযোগ পেয়েছে, অবিশ্বাস্য ভালো খেলেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ক্যারিয়ার আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে। আমার বিশ্বাস, আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে আমাদের একসঙ্গে প্রচুর ক্রিকেট খেলার সুযোগ রয়েছে; তাই এই লক্ষ্যটি পূরণ করাটা দারুণ ব্যাপার হবে।”
ব্রিসবেনের ন্যাশনাল ক্রিকেট সেন্টারে টেস্ট ম্যাচের তীব্র চাপ সামলানোর উপযোগী অনুশীলনে গত কয়েক সপ্তাহ কাটানোর পর, লাল বলের ক্রিকেটের জন্য নিজের সতর্ক প্রস্তুতির বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হ্যাজলউড। তিনি জানান, কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ না খেলে সরাসরি টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি নেওয়ার ঘটনা সম্ভবত তার ক্যারিয়ারে এটাই প্রথম। মূলত মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবারের মতো দিনগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে নিবিড় অনুশীলন চলেছে, যার ফাঁকে ফাঁকে অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রমও ছিল। এছাড়া গত সপ্তাহে টানা কয়েক দিন অনুশীলন করার পর আগামী সপ্তাহেও একই ধারা বজায় রাখার পরিকল্পনা তার। সাধারণত অন্যান্য টেস্ট সিরিজ বা ম্যাচের আগে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে খেলার ব্যস্ততা এবং ভ্রমণের চাপে বোলিং সেশনের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু এবারের প্রস্তুতি পর্বটি জশ হ্যাজলউডের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাই নিজের লক্ষ্য অর্জনে এবং দলের সাফল্যে অবদান রাখতে পুরো সময়টিকে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগিয়েছেন।











