রিয়াল মাদ্রিদের দলবদলের পরিকল্পনা এখন ফুটবল বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশেষ করে আইভোরিয়ান তরুণ প্রতিভাকে ইয়ান দিওমান্ডেকে দলে ভেড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি, তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, স্প্যানিশ জায়ান্টরা শেষ পর্যন্ত ১৩০ মিলিয়ন ইউরোরও বেশি ট্রান্সফার ফির বিনিময়ে এই প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে দলে নিতে প্রস্তুত।

রেডিও মার্কার জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘লা ত্রিভু’-তে উপস্থিত হয়ে এই সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছেন প্রখ্যাত স্প্যানিশ সাংবাদিক ডেভিড সানচেজ। তিনি রিয়াল মাদ্রিদ ভক্তদের মধ্যে এই নতুন খেলোয়াড়ের আগমন নিয়ে তৈরি হওয়া বিপুল উন্মাদনা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। তবে সানচেজ এই আকর্ষণের পাশাপাশি স্প্যানিশ ফুটবলের বর্তমান তরুণ আইকনের সঙ্গে দিওমান্দের একটি তুলনা টেনেছেন। তাঁর মতে, রিয়াল মাদ্রিদ আসলে এমন একজন খেলোয়াড় খুঁজছে যিনি আগামী মৌসুমের জন্য তাদের স্কোয়াডে লামিন ইয়ামালের মতো প্রভাব তৈরি করতে পারবেন।

তবে ডেভিড সানচেজ মনে করেন, বার্সেলোনার ১৯ বছর বয়সী এই বিস্ময়কর প্রতিভা লামিন ইয়ামালের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ অনেক বেশি প্রতিশ্রুতিশীল। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বার্সার এই উইঙ্গার ইতিমধ্যেই স্প্যানিশ জাতীয় দলের হয়ে বড় শিরোপা জিতেছেন। সানচেজের ভাষায়, ‘বার্সেলোনার কাছে ইতিমধ্যেই এমন একজন ১৯ বছর বয়সী খেলোয়াড় রয়েছেন যার ভবিষ্যৎ দিওমান্দের চেয়েও অনেক বেশি উজ্জ্বল এবং যিনি ইতিমধ্যেই ইউরোপীয় ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।’

কেবল খেলোয়াড় নয়, দলগত কৌশলের দিক থেকেও বার্সেলোনা বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে সানচেজের বিশ্বাস। তাঁর মতে, বার্সা ইতিমধ্যেই তাদের নিজস্ব খেলার ধরন বা স্টাইল প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। সবচেয়ে কঠিন টুর্নামেন্টগুলোতে আরও কার্যকরভাবে লড়াই করার জন্য তাদের কেবল ছোটখাটো কিছু সমন্বয় বা ‘ফাইন-টিউন’ প্রয়োজন। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়নস লিগের নক-আউট পর্বের প্রতিযোগিতায় আরও ধারাবাহিক হতে হবে তাদের।

অন্যদিকে, স্পেনের আরেক বিশিষ্ট সাংবাদিক ডেভিড বার্নাব্যু আরও কঠোর মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বার্সেলোনা রিয়াল মাদ্রিদকে কার্যত ‘পিষে’ দিয়েছে। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, গত দুই বছরে বার্সেলোনা পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রফি জিতেছে এবং সাতটি এল ক্লাসিকোর মধ্যে ছয়টিতেই তারা জয়লাভ করেছে, যা রিয়াল মাদ্রিদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিসংখ্যানগুলো প্রমাণ করে যে, বর্তমানে কাতালান ক্লাবটি মাঠের লড়াইয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।