ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির বাংলাদেশে নতুন করে আর বিনিয়োগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা এবং দেশে কাজ করার পরিবেশ নিয়ে গভীর অসন্তোষ থেকেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি দেশে নিজের স্টুডিও পরিচালনা চালিয়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনাও আর তার নেই বলে জানিয়েছেন।
শনিবার ৩১ অক্টোবর রাজধানীর মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারের স্টার সিনেপ্লেক্সে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘গ্যাপ’-এর বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নেন তিনি। সেখানে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, ব্যক্তিগত সংকট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন এই জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর।
বাংলাদেশে থেকে কাজ করার পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সালমান স্পষ্ট করে বলেন, দেশে থাকার পরিকল্পনা তার কখনোই ছিল না, আগেও ছিল না। স্টুডিও ভাঙার ঘটনার পর তিনি জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে আর স্টুডিও চালিয়ে যাবেন না। এটি তার নিজের মতামত ও ব্যক্তিগত বক্তব্য ছিল বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশে আর বিনিয়োগ করব না।
সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি বলে জানান সালমান। তার ভাষ্য, সরকারকে কিছু বলার সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছিলেন তিনি। আন্তরিকভাবে প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি। তাই তার মনে হয়েছে, কথা বললেও তা শোনার মতো পরিবেশ বা সুযোগ তৈরি হবে না।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন করা হয় তাকে। এ প্রসঙ্গে সালমান বলেন, যাদের এ বিষয়ে কথা বলা উচিত, তাদেরই কথা বলা ভালো। সাধারণ নাগরিক হিসেবে মানুষ কেবল পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা নিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ব্যক্তিগত জীবনেও কঠিন সময় পার করছেন বলে জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে একটি বড় বিপদ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন তারা। নিজের কষ্ট ও ক্ষতির কথা স্বীকার করলেও তা আঁকড়ে ধরে বসে থাকতে চান না তিনি। বরং খারাপ সময় পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সালমানের মতে, জনপ্রিয়তা ও খ্যাতির ইতিবাচক দিক যেমন গ্রহণ করতে হয়, তেমনি এর সঙ্গে আসা নেতিবাচক পরিস্থিতি মেনে নেওয়ার মানসিকতাও থাকতে হবে। জীবনে সব সময় ভালো কিছু ঘটবে না, খারাপ সময়ও আসবে। সেগুলো সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।




















