ভোলার মনপুরা উপজেলার মনপুরা মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজে দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি হারিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (এমএলএসএস) সেলিম। রাজনৈতিক পরিচয় এবং ক্ষমতার পালাবদলের কারণে তাকে পরিকল্পিতভাবে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অর্থকষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে এই ভুক্তভোগীর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমের মাতা মনোয়ারা বেগমের নামে ২০০২ সালে মনপুরা মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য এই কলেজটি কর্মসংস্থানের এক বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

ভুক্তভোগী সেলিমের দাবি, তিনি বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত হওয়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের রোষানলে পড়েন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। তার অভিযোগ, ক্ষমতার পালাবদলের পর তৎকালীন মনপুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম শাহাজাহান এবং কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিনের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও সিদ্ধান্তের কারণে তাকে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। সেলিমের দাবি, যথাযথ নিয়ম-কানুন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কেবল একটি ম্যানেজিং কমিটির সভার মাধ্যমে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়, যা ছিল সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।

চাকরি হারানোর পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবং বারবার চেষ্টা করেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। এই দীর্ঘ সময় 동안 তার জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী সেলিম আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমি শুধু অন্যায়ের প্রতিকার চাই। আমার চাকরি যদি সত্যিই নিয়মবহির্ভূতভাবে বাতিল বা স্থগিত করা হয়ে থাকে, তবে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করে আমাকে ন্যায়বিচার দেওয়া হোক। আমি বিশ্বাস করি, সত্যের জয় হবেই।” তিনি আরও দাবি করেন, তার চাকরি হারানোর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব কতটা কাজ করেছে এবং তৎকালীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো যথাযথ নিয়ম মেনে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেলিমের মনে জেগেছে নতুন আশার আলো। তিনি প্রত্যাশা করছেন, ভোলা-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। তার দাবি, দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভিযোগ ও আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সেলিমের প্রশ্ন—রাজনৈতিক কারণে যদি সত্যিই তার জীবিকা কেড়ে নেওয়া হয়ে থাকে, তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় কি তিনি আবারও তার সম্মান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ ফিরে পাবেন?

তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা এ কে এম শাহাজাহান এবং কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, সেলিম দাবি করেছেন যে, তার চাকরি হারানোর ঘটনাসহ কলেজের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে তার কাছে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, যা তিনি পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করবেন। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে—এমনই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন এই অসহায় কর্মচারী।