সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার এবং তা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির অভিযোগে এক ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারসহ আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ওই তরুণীর নাম সুমাইয়া সাঈদ (২৫)। তার সাথে গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রধান সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককে। তবে এই ঘটনায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে; সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকেও সংশ্লিষ্ট মামলায় আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ, মেয়েটির এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও তিনি তাতে সম্মতি দিয়েছিলেন এবং ওই অবৈধ আয়ের অর্থ নিয়মিত গ্রহণ করতেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের একটি বিশেষ দল রাজধানীর ভাটারা ও বাড্ডা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করে। ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট নিয়মিত সাইবার নজরদারির সময় সুমাইয়ার ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে আপত্তিকর কনটেন্ট এবং তা বিক্রির বিজ্ঞাপন শনাক্ত করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে তারা এই অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
মূলত বিকাশ ও নগদের মতো জনপ্রিয় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও সরবরাহ করত এই চক্রটি। গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে তারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে প্রচারণা চালাত। এমনকি ৩ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে একটি ‘লাইফটাইম প্যাকেজ’ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো, যার মাধ্যমে গ্রাহকরা দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের কনটেন্ট পাওয়ার সুযোগ পেত।
ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে সুমাইয়ার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গত ১১ আগস্ট রাতে ভাটারা থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়। তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স এবং একটি ওয়ানপ্লাস স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তীতে সুমাইয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডা এলাকা থেকে তার সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সুমাইয়া ও তার সহযোগীরা অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে এই চক্রটি পরিচালনা করছিলেন। অন্যদিকে, তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে সুমাইয়ার বাবা তার মেয়ের এই অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত ছিলেন। বাধা দেওয়া তো দূরের কথা, তিনি বরং এই অবৈধ উপার্জনের অর্থ নিয়মিত গ্রহণ করতেন, যা নৈতিকভাবে চরম অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ।
এই গুরুতর অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর আওতায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার গভীরে গিয়ে মূল নেটওয়ার্ক উদঘাটন এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতত সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে গ্রেপ্তারকৃত দুইজনকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে ডিবি পুলিশ। পুলিশ আশা করছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই চক্রের আরও বড় কোনো জাল এবং এর সাথে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের নাম উন্মোচিত হবে।















