দেশের সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং গণপরিবহনের চলাচল আরও সুশৃঙ্খল করতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। আজ শনিবার থেকে দেশের সব ধরনের গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন এবং তা সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকারের এই নতুন নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো গণপরিবহনের রুট ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং সামগ্রিকভাবে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।
নতুন সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে যেকোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন কিংবা ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রে জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। শুধু প্রমাণপত্র দিলেই হবে না, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ওই ডিভাইসের কার্যকারিতাও প্রদর্শন করতে হবে। সরকারি নির্দেশনা স্পষ্ট যে, জিপিএস সংযুক্ত ও সচল না থাকলে কোনোভাবেই কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন প্রদান বা ফিটনেস সনদ নবায়ন করা হবে না। এই বিষয়ে পরিবহন মালিক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
তবে প্রযুক্তির এই ব্যবহারের পাশাপাশি প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, "শুধুমাত্র প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কারও করতে হবে। সুশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেই কেবল এর প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব।"
এদিকে, বিআরটিএর চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, নতুন কোনো গাড়ির নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলে সেটিতে অবশ্যই জিপিএস সংযুক্ত থাকতে হবে। একইভাবে ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রেও জিপিএস থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ করতে এবং জিপিএস সচল আছে কি না তা দ্রুত যাচাই করতে বিআরটিএ নিজস্ব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এর ফলে খুব সহজেই নিশ্চিত করা যাবে যে কোনো নির্দিষ্ট গাড়িতে জিপিএস ডিভাইসটি সঠিকভাবে কাজ করছে কি না।











