বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে সাম্প্রতিক কিছু নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও, চলতি মাসে জ্বালানি তেলের বাজার এক নতুন রেকর্ড গড়েছে। সাপ্তাহিক এবং মাসিক হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তেলের প্রধান দুটি বেঞ্চমার্কেই দাম বড় ধরনের উত্থানের দিকে যাচ্ছে। সামগ্রিক হিসেবে গত এক মাসের ব্যবধানে ব্রেন্ট ক্রুড এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডাব্লিউটিআই)—উভয় জ্বালানি তেলের দামই প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ দশমিক ৬৭ ডলারে। অন্যদিকে, ডাব্লিউটিআই-এর বাজারমূল্য বর্তমানে ব্যারেল প্রতি ৮২ দশমিক ০৭ ডলার। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা বিরাজ করা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে আগের তুলনায় অধিক সংখ্যক তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচলের খবর সামনে আসায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে এই সামান্য পতন লক্ষ্য করা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি দ্রুত অবসানের দিকে যায়, তবে বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। এই সম্ভাবনা বা আশঙ্কাই বর্তমানে তেলের দামকে নাটকীয়ভাবে বাড়তে বাধা দিচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে পরিমাণ জাহাজ চলাচল করত, বর্তমান ট্র্যাফিক তার তুলনায় এখনও বেশ সীমিত। তবে যাতায়াত ব্যবস্থায় যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের খবর মিললেই তা তাৎক্ষণিকভাবে তেলের ফিউচার প্রাইসের ওপর প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে, কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে তেল সরবরাহ করে আসছিল। তবে বর্তমানে এই মজুদের পরিমাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে খুব শীঘ্রই তাদের অতিরিক্ত তেল সরবরাহ বন্ধ করতে হবে, যা আগামী দিনে বিশ্ববাজারে তেলের দাম পুনরায় বাড়িয়ে দিতে পারে।
এর পাশাপাশি, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে সৌদি আরব একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই জোটের মাধ্যমে লোহিত সাগর ও সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোতে বাণিজ্যিক ট্যাংকারগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। (সূত্র: অয়েলপ্রাইসডটকম)










