স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ জানাতে এবং উসকানিতে কান না দিতে। শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'সাদা দল' ও 'ইউট্যাব'-এর আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও উসকানির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেউ গালি দিলে বা আক্রমণাত্মক কথা বললে তার জবাব দিতে হবে গণতান্ত্রিক উপায়ে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রতিবাদ করার সুযোগ সবসময় খোলা থাকবে এবং পরদিন যথাযথভাবে প্রতিবাদ করা যাবে, তবে কোনোভাবেই হামলা চালানো যাবে না। তার মতে, হামলার রাজনীতি অব্যাহত থাকলে তা পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই পুনরাবৃত্তি হবে, যা দেশের জন্য কাম্য নয়।

বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তিনি সতর্ক করেন যে, কিছু অশুভ শক্তি এমন পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে যাতে সাধারণ শিক্ষার্থী বা রাজনৈতিক কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতের মুখে পড়েন। তিনি এই ধরনের ‘ফাঁদে’ পা না দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মতপ্রকাশ, সমালোচনা এবং প্রতিবাদের পূর্ণ সুযোগ থাকতে হবে। তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করা বা সহিংসতায় জড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণের মধ্য দিয়েই দেশে একটি নতুন ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ভারতের ভূমিকা ও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দিল্লিতে অবস্থান করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে যে ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন, তার দায়ভার ভারত এড়াতে পারে না। সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এবং এ দেশের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য ক্রমাগত নেতিবাচক বয়ান তৈরি করে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে ইতিমধ্যেই দাফন হয়ে গেছেন। এখন দিল্লিতে বসে তিনি যদি পুনরায় রাজনৈতিক তৎপরতা চালান, তবে তা হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রতি সরাসরি আঘাত।