পেরুর দক্ষিণাঞ্চলে এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যার প্রভাবে রাজধানী লিমাসহ দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে আয়াকুচো অঞ্চলে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে জানিয়েছে তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
ভূমিকম্পটির তীব্রতা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্যমতে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭। তবে পেরুর নিজস্ব ভূ-পদার্থবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, এর মাত্রা ছিল আরও বেশি, অর্থাৎ ৭ দশমিক ২। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আয়াকুচো অঞ্চলের পারিনাকোচাস প্রদেশে, যা কোরাকোরা শহরের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। ভূ-বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০৮ কিলোমিটার নিচে।
এত শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের স্থাপনা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল অনেক গভীরে হওয়ায় এর শক্তির একটি বড় অংশ ভূগর্ভেই শোষিত হয়ে গেছে, যার ফলে ভূপৃষ্ঠে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে পেরুর উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে পর্যায়ক্রমে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় দেশটির ভূ-পদার্থবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরামর্শ দিয়েছে যেন নাগরিকরা জরুরি পরিস্থিতিতে বাড়ি থেকে নিরাপদে বের হওয়ার পরিকল্পনা পুনরায় পর্যালোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় জরুরি সামগ্রীর কিট প্রস্তুত রাখেন।
উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থানের কারণে পেরু ভূমিকম্পপ্রবণ একটি দেশ। ফলে এখানে প্রায়ই এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে থাকে। এর আগে ২০০৭ সালে দেশটির ইকা অঞ্চলে ৭ দশমিক ৯ মাত্রার এক ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যাতে প্রায় ৬০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।




















