দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এই শপথ নেন। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সামনে তিনি শপথ বাক্য পাঠ করেন। পুরো শপথ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে এক গম্ভীর ও আনুষ্ঠানিক পরিবেশ তৈরি হয়। শপথ গ্রহণের পর প্রচলিত রাষ্ট্রীয় প্রথা অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষর শেষে নির্ধারিত আসনে আসন গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যার মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিরা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সাক্ষী ছিলেন। রাষ্ট্রপতির এই শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবন প্রাঙ্গণে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয় এবং প্রশাসনিকভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের পরপরই বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। নতুনভাবে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে যাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। পাশাপাশি, বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত পদোন্নতি পেয়ে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই এই নতুন মন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের সভাকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫টি ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। অন্যদিকে, ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ৮৮টি ভোট পান। উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী তৎকালীন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল স্পিকারের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্য দিয়েই দেশের রাষ্ট্রপতির পদের শূন্যতা পূরণ হলো।