বিদ্যালয়ের জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি সরকারি বিদ্যালয়ের জমি অবৈধভাবে দখল, মাটি কেটে জমির আকার পরিবর্তন এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় নুরুজ্জামান কাফি ছাড়াও তার বড় ভাই এবং বাবার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বাদী হয়ে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে কলাপাড়া থানা-পুলিশকে দ্রুত তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতে দাখিল করা মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ১১ জুলাই সকালে কলাপাড়া উপজেলার রজাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নুরুজ্জামান কাফি, তার বড় ভাই মামুন এবং বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান একত্রে একটি ভেকু (খননযন্ত্র) নিয়ে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন ৫৯ নম্বর দাগভুক্ত জমিতে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা নিয়মবহির্ভূতভাবে জমির মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা শুরু করেন। ঘটনার খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম কয়েকজন সহকারী শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিকে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং তাদের বাধা প্রদান করেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, বাধা দেওয়ার ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে নুরুজ্জামান কাফি প্রধান শিক্ষকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

এজাহারে আরও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তরা প্রায় ১১০ ফুট দীর্ঘ এবং ৩০ ফুট প্রশস্ত জমি থেকে অন্তত এক লাখ টাকার মাটি কেটে ট্রলিতে করে সরিয়ে ফেলেছেন এবং সেখানে খোয়া ফেলে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। এই কর্মকাণ্ডের ফলে বিদ্যালয়ের আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী।

তবে মামলার এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান কাফি। তিনি পাল্টা দাবি করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি আইনি প্রক্রিয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে জমির প্রকৃত ওয়ারিশরা রায় পেয়েছেন। আমি সেই ওয়ারিশদের কাছ থেকে বায়নামূলে জমিটি ক্রয় করেছি। মালিকপক্ষ আমাকে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পরেই সেখানে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে।’ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সাথে তার কোনো কথা হয়নি বা সাক্ষাৎ হয়নি বলে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য সবার সামনে বেরিয়ে আসবে।’

উল্লেখ্য যে, গত ১৪ জুলাই প্রথম যখন বিদ্যালয়ের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগটি সামনে আসে, তখন নুরুজ্জামান কাফি একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এরপরই তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ যুক্ত হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ। মামলার বিষয়ে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফেরদৌস মিয়া জানান, আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছেন এবং কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।