জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে আগামী ৬ জুলাই থেকে দেশব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। ‘গণভোট বাস্তবায়ন, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষা’র মতো জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন দাবিগুলো সামনে রেখে এই পদযাত্রা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে দলটির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম প্রথমবার জানান, দেশের ৬৪টি জেলাতেই এই কর্মসূচি পালন করা হবে। তবে এই ঘোষণার মাত্র এক ঘণ্টা পর প্রকাশিত সংশোধিত তালিকায় দেখা যায়, গোপালগঞ্জ জেলাকে আপাতত কর্মসূচির বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে ৬৩টি জেলায় এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।

হঠাৎ করে গোপালগঞ্জকে কর্মসূচির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গত বছর ওই জেলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এনসিপির কর্মীদের সংঘাতের ঘটনার কথা মনে করে অনেকে ধারণা করছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই বিষয়টি নিয়ে নানা বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সামনে এসেছে।

এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার জানান, গোপালগঞ্জ বাংলাদেশের বাইরের কোনো জেলা নয়, তাই সেখানেও দলটির নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য ও এজেন্ডা রয়েছে। তবে বর্তমানে তারা কৌশলগতভাবে সেইসব জেলা ও উপজেলাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, যেখানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং যেখানে তারা নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করতে চান।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, গোপালগঞ্জ জেলাসহ আরও কিছু উপজেলায় আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দ্বিতীয় দফায় পদযাত্রা করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। গত বছরের সংঘর্ষের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গোপালগঞ্জ বাদ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তুষার বলেন, “আমরা চাই না এই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে কোনো সংঘাত বা উত্তেজনা তৈরি হোক। যেহেতু আগে একবার সমস্যা হয়েছে, তাই এবার আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পা ফেলতে চাই।” তিনি আরও যোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট জেলাকে কেন্দ্র করে যেন পুরো এক মাসের কর্মসূচিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই এই সাময়িক সিদ্ধান্ত। তবে দ্বিতীয় ধাপের পদযাত্রায় গোপালগঞ্জ অবশ্যই বিবেচনায় থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।