আলমগীর কবীর হৃদয়
নজরুল বর্ষ-২০২৬ উদযাপন এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে পাবনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘শ্রদ্ধা ও স্মরণে কাজী নজরুল ইসলাম’ শীর্ষক আলোচনা, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য অনুষ্ঠান। দেশের অন্যতম সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন উত্তরণ পাবনা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শহরের ৫৬ নম্বর সমবায় মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় উত্তরণ পাবনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কবি, গীতিকার, বাচিকশিল্পী ও সাংবাদিক আলমগীর কবীর হৃদয়-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদীর সাহিত্য সংগঠন নোঙরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি অধ্যাপক হাসানুজ্জামান। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজরুলসংগীত গবেষক ও কণ্ঠশিল্পী শফিক উদ্দীন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী সংগঠন পাবনার সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বাবু।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি ও চলচ্চিত্রকার দেওয়ান বাদল, কবি ও নদী গবেষক ড. মনসুর আলম, কবি ও সাংবাদিক শফিক আল কামাল, কবি সাইফুল কামাল, একুশে বইমেলা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, কবি ও বাচিকশিল্পী মঞ্জুরুল ইসলাম, সাহিত্য পত্রিকা দিপালয়-এর সম্পাদক হাফিজুর রহমান রিপন, কবি মোঃ মফিজ উদ্দিন বিশ্বাস, কণ্ঠশিল্পী লিটন গাইন, কবি ও কণ্ঠশিল্পী ডাঃ নাজমুল হোসেন, কবি শায়েক শোয়েব, সোনার বাংলা মা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ও নৃত্য প্রশিক্ষক মোঃ সুমন আলী এবং মোঃ হাবিবুর রহমান স্বপন।
এ সময় উত্তরণ পাবনার সাধারণ সম্পাদক এটিএম ফজলুল করিম, সহসভাপতি আখতারুজ্জামান জর্জ, মাসুদ হাসান রনি, সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী তাসলিমা জামান কাজল, যুগ্ম সম্পাদক কবি রুদ্র বিশ্বাস, সাহিত্য সম্পাদক কবি ও কণ্ঠশিল্পী নীলিমা নীল, সহসাহিত্য সম্পাদক কবি সৈয়দা সোনিয়া খাতুন, সদস্য ও নাট্যশিল্পী জাহানারা সিদ্দিকী মুক্তা, কণ্ঠশিল্পী দেলোয়ার হোসেন দিলু, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক, শেখ মামুন, কণ্ঠশিল্পী মিম খাতুন, মোঃ জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে পরিবেশিত হয় নজরুলসংগীত ও কবিতা আবৃত্তি। পাশাপাশি কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ এবং কবি নজরুল ইসলামের সাহিত্যচর্চা, জীবন ও কর্ম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম, সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে তাঁর সোচ্চার অবস্থান এবং বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে তাঁর অনন্য অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রয়াত সকল সাংস্কৃতিক কর্মী, কবি, সাহিত্যিক ও কণ্ঠশিল্পীসহ দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ১৯৬৯, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে মৃত্যুবরণকারী সকলের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
নজরুল বর্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, দর্শন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁর অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী চেতনাকে ধারণ ও চর্চার প্রত্যয়কে আরও দৃঢ় করেছে।















