বর্তমান সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। যারা নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইবেন, তাদের আর দীর্ঘ ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনো ধরনের চোখ রাঙানি তারা সহ্য করবেন না এবং যেখানেই বাধা আসবে, সেখানেই তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী সদর উপজেলার মহিপাল এলাকায় ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট এবং বিভিন্ন গণহত্যার বিচার না হওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়িতে এবং সংসদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকলেও সাধারণ মানুষের বাড়িতে কেন বিদ্যুৎ নেই?
বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও অসম্পূর্ণতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ছয় মাসে শাপলা চত্বরের গণহত্যা এবং পিলখানার হত্যাকাণ্ডের মতো বড় বড় অপরাধের বিচার শুরু হয়নি। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যে বিচার প্রক্রিয়াগুলো শুরু হয়েছিল, তার অনেকগুলোই এখন বন্ধ হয়ে গেছে।’ শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমাদের কারও মামার বাড়ি বা পিসির বাড়ি নেই; এই দেশেই আমাদের জন্ম এবং এই দেশই আমাদের একমাত্র ঠিকানা। আমরা তরুণ প্রজন্মের হাতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ দেশ তুলে দিতে চাই।’
উল্লেখ্য, শনিবার সকালে ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে ১১-দলীয় ঐক্যের এই বিশাল লংমার্চ শুরু হয়। এই লংমার্চের চূড়ান্ত গন্তব্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দান। যাত্রাপথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভার কর্মসূচি রাখা হয়েছে, যার অংশ হিসেবে কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, চৌদ্দগ্রাম এবং ফেনীতে পথসভার আয়োজন করা হয়।
১১-দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের চরম সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।


















