হাফিজুর রহমান খান: টানা ভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকির মধ্যেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উপজেলার শাপলাপুর, মাতারবাড়ী, ধলঘাটা, কালারমারছড়া ও কুতুবজোম ইউনিয়নের বিভিন্ন দুর্গত এলাকা, বিশেষ করে ঘটিভাঙা এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পানিবন্দী মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত বড়ুয়া অসুস্থ, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা মানুষের তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরামর্শ প্রদান করেন। দুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীও মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, কালারমারছড়া ইউনিয়নের পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাড়িতে গিয়ে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ সময় প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় এবং ভবিষ্যতেও প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৫০ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ১০০ বস্তা চাল বিতরণের পাশাপাশি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে ২ টন করে মোট ১০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদগুলো পর্যায়ক্রমে খাদ্য অফিস থেকে চাল গ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে বিতরণ করবে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

পরিদর্শন ও সহায়তা কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু জাফর মজুমদার, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত বড়ুয়া, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুভ্রোত দাশ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।