অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম উগ্র ডানপন্থী বা ‘ফার-রাইট’ গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা এবং বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণের জটিলতা নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘খেলা শেষ, খোদা হাফেজ!’ শিরোনামে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে তিনি মাজার, বিভিন্ন পত্রিকা অফিস এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে চালানো সাম্প্রতিক হামলার তীব্র সমালোচনা করেন।
ফেসবুকে প্রকাশিত ওই পোস্টে মাহফুজ আলম প্রশ্ন তোলেন, রাইট উইংয়ের কুশীলবদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ‘ফার-রাইট’ উপাদানগুলোর ভয়ঙ্কর খেলা এখন কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে? তিনি অভিযোগ করেন, মব সন্ত্রাস এবং মাজার, পত্রিকা অফিস ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিত হামলার মাধ্যমে এই গোষ্ঠীগুলোকে ভাড়াটে হিসেবে ব্যবহার করে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছে। তার মতে, নির্বাচনী বৈতরণী পার করার পর এখন এই ‘জাশি-রাইট উইং’ বলয় নিজেদের হাত ধুয়ে পরিষ্কার করার চেষ্টা করবে, যাতে তারা নিজেদের দায় থেকে মুক্তি পেতে পারে এবং জনসমক্ষে নিজেদের ইমেজ রক্ষা করতে পারে।
সাবেক উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, গত দুই বছর ধরে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই ফার-রাইট উপাদানগুলোকে লালন-পালন ও উৎসাহিত করা হয়েছে। সেকুলার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মধ্যবিত্ত শ্রেণির মনে জুলাই বিপ্লব নিয়ে এক ধরণের বীতশ্রদ্ধা এবং বিভ্রান্তি তৈরি করার পেছনে এই গোষ্ঠীগুলোর বড় ভূমিকা ছিল। মাহফুজ আলমের দাবি, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে একটি ‘ইসলামি’, ‘ঐতিহ্যবাদী’ কিংবা ‘পুনর্জাগরণবাদী’ বিপ্লবে রূপান্তর করার স্বার্থে অনলাইনে এবং অফলাইনে ব্যাপক মব-নৈরাজ্য চালানো হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দেশের বিজ্ঞজন এবং সচেতন নাগরিকরা শীঘ্রই এই সত্যটি উপলব্ধি করবেন এবং এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে কথা বলা শুরু করবেন। সাবেক এই উপদেষ্টা জানান, তিনি গত বছরের শুরু থেকেই এই ধরণের ফার-রাইট গুন্ডাতন্ত্র এবং ডিজিটাল মবের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এর ফলে তাকে বিভিন্ন কুশীলবদের চক্রান্ত এবং তাদের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের দৌরাত্ম্য ও মানসিক চাপ সহ্য করতে হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামনের দিনগুলো সবার জন্য হিসাবনিকাশ বা ‘রেকনিং’-এর সময় হবে, যেখানে প্রতিটি কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত বিচার হবে।











