কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার দুপুরে জেলা জামায়াতের নেতাদের উপস্থিতিতে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন পেকুয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন। ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন বারবাকিয়ায় এএইচএম বদিউল আলম, রাজাখালীতে মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, মগনামায় শহীদুল মোস্তফা চৌধুরী, টইটংয়ে মাওলানা হাসান শরীফ, শিলখালীতে মোহাম্মদ ইলিয়াছ, উজানটিয়ায় মাওলানা আবু শরীফ এবং নবগঠিত পেকুয়া সদর ইউনিয়নে মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন নিজে। এদিকে রাজাখালী ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির।
তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে জামায়াতের রাজনীতি ছাড়ার এবং দলের সব পদ-পদবি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি। শনিবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে হুমায়ুন কবির লেখেন, আজকে থেকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বিদায় নিলাম। রাজাখালী জামায়াতে ইসলামী ন্যায়-ইনসাফ টাকার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা করেছে। টাকার বিনিময়ে বিক্রি হওয়া ব্যক্তিরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে। তবে কিছুক্ষণ পর তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন। পরে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রাজাখালীতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির উপজেলা জামায়াতের রুকন সদস্য এবং রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন।
২০১৬ ও ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি জামায়াতের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, দলীয় রাজনীতির কঠিন সময়ে যখন অনেকে ভয়ে নিজেদের জামায়াত পরিচয় প্রকাশ করতেও অনাগ্রহী ছিলেন, তখন ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সংগঠনের হয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলাম। ওই সময় আমাকে সামনে রেখেই রাজাখালীতে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। আজ আমাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই স্বেচ্ছায় জামায়াতের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমি জনগণের মনোনীত রাজাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সবার দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি। অন্যদিকে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণে অর্থ লেনদেন কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের অভিযোগ নাকচ করেছেন পেকুয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন।
তিনি বলেন, হুমায়ুন কবিরের দল ছাড়ার বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। সংগঠনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জেলা আমির অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী এবং সাংগঠনিক সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসাইন ও আল আমিন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, অর্থ বা প্রভাবের কোনো বিষয় নেই। প্রার্থী নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, সাংগঠনিক অবস্থান, জনসম্পৃক্ততা ও নির্বাচনী সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে কারও অভিযোগ থাকার কথা নয়।

















