হাফিজুর রহমান
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প শেষ না করেই ঠিকাদার ও জন প্রতিনিধিদের বিল ছাড় করণে সহায়তার বিনিময়ে তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেছেন অভিযোগ স্থানীয়দের। অফিসে তিনি মিস্টার পার্সেন্টেজ নামে পরিচিতি পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকল্পের কাজ না করেই বিল তুলে নেওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে উপজেলায়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ধলবাড়িয়া, রতনপুর এবং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে ত্রাণ ওদুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩ টি প্রকল্পে দু,টি প্যাকেজে ইটের সোলিং রাস্তা ও প্লাসাইডিং কাজের জন্য ৩ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকার প্রকল্পে কোন তদারিকি ছাড়া দায় সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করে । উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিলে সই করলেও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুর রহমান ২০% কমিশন ছাড়া বিল ছাড় করবে না বলে আটকে রেখেছে। অবশেষে সমঝোতায় ১১% কমিশন পেলে ছাড় করবেন বলে সাব জানিয়ে দেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সহ একাধিক ঠিকাদার এমনই বিস্তর অভিযোগ এ প্রতিনিধিকে জানান। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে পিআইও মফিজুর রহমান এ প্রতিনিধিকে বলেন চলতি অর্থবছরের মধ্যে কাজ না শেষ করলে টাকা ফেরত যাবে বলে তৎকালীন অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা বিলে সই করলেও কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আমি বিল ছাড় দেবো না। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পাল্টা অভিযোগ প্রথমে ২০% কমিশন চেলেও পরে দর কষাকষিতে ১১% না হলে বিল দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এখন উপজেলা জুড়ে আলোচনা সমালোচনা ছাড়াও বিভিন্ন সভা সমাবেশে পিআই ওকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য শুনতে হচ্ছে। এমনই ভুক্তভোগী উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের একাধিক চেয়ারম্যান, মেম্বাররা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিনিধিকে একাধিক জনপ্রতিনিধি জানান জন গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যমান কাজ ছাড়া লোক চক্ষুর আড়াল, অন্তরালে শুধু পারসেন্টেজ দিয়ে কাজ না করলেও কিছু হয় না। আর এই কাজে কমিশন আদায় ও প্রকল্প তদারকির কাজে স্বপন নামে এক স্কুল কর্মচারী সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকে। স্বপন উকশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারি হিসাবে চাকরি করলেও বিদ্যালয়ে তাকে মাঝেমধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় । হাজিরা খাতায় অগ্রিম এবং পরে সই দিয়ে এক যুগের ও বেশি সময় ধরে উপজেলা পিআইও অফিসে কাজ করলেও দেখার কেউ নাই। পিআইও খ্যাত স্বপন উপজেলার এডিবি, উন্নয়ন সহায়তা, টি আর, কাবিখা, কাবিটা ,ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় সহ সকল প্রকল্পের রাস্তা, কালভার্ট, ব্রিজ, স্কুল, মাদ্রাসা ,মসজিদ, মন্দির, খাল খনন কাজের দেখ ভালো ও তদারকি কমিশন আদায়ের কাজ করে আসছে। এছাড়াও পিআইএ মফিজকে বহন করার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী যুবলীগের ক্যাডার একাধিক বিয়ে পাগল আরশাদকে তার অফিসে মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতনে রেখেছে। কোন গণমাধ্যম কর্মী বা সাংবাদিকের সঙ্গে পিআইও মফিজ কথা না বলে এড়িয়ে চলেন। কোন তথ্য চাইতে গেলে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও খারাপ ব্যবহার করেন। গত ২ আগস্ট সাংবাদিক আরাফাত আলী তথ্য অধিকার আইনে আবেদন নিয়ে তার অফিসে গেলে আবেদন জমা না নিয়ে লাঞ্ছিত ও দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেন। উক্ত ঘটনায় জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৩১ শে আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন তদন্তে সত্যতা পেয়ে পিআইও মফিজকে কঠোর ভৎসনা করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিআইও অফিসের এক কর্মচারী জানান, পিআইও স্যারের কাছ থেকে কাজ আদায় করতে হলে তার 'পাওনা' আগে বুঝিয়ে দিতে হয়। উনার পার্সেন্টেজ পেলেই হলো, মাঠ পর্যায়ে কাজ ঠিকমতো হলো কি না, তা উনি দেখেন না। উপজেলার এক ভুক্তভোগী ঠিকাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টাকা ছাড়া পিআইও কোনো ফাইল সই করেন না। আমরা ঘুষ দিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি ঠিকই, কিন্তু উনার চাহিদার হার অনেক বেশি। এমন চললে কাজ করব নাকি উনাকে কমিশন দেব?
কমিশন বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া গল্প। এ বিষয়ে কালিগঞ্জ উপজেলায় সদ্য অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ জানান, কাজ বাস্তবায়ন না করে বিল পাসের সুযোগ নেই, এটি চরম অন্যায়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও মাঠ পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কালীগঞ্জের পিআইও মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা কমিশন বাণিজ্য ও ভুয়া বিল পাসের গুরুতর অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি রাখে। উপজেলা প্রশাসন ও জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করবে, এমনটাই প্রত্যাশা উপজেলা বাসি ও সচেতন মহলের















