যমুনা সেতু এলাকায় পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটাতে এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি এক সভায় যমুনা সেতু সংলগ্ন এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে ১২০ একর জমি দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে। দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের পাশাপাশি সবুজ জ্বালানি উৎপাদনের এই উদ্যোগটি পরিবেশ সংরক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ৩ আগস্ট সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১১৭তম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ড চেয়ারম্যান শেখ রবিউল আলম। উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সভায় বোর্ড সদস্যবৃন্দ সশরীরে এবং ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রস্তাবনা ও প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতামত প্রদান করেন।
বোর্ডের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যমুনা সেতু সাইটের নির্ধারিত ১২০ একর জমি নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (এনডব্লিউপিজিসিএল)-কে ইজারা প্রদান করা হবে। এই জমিতেই নির্মিত হবে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ৫৫ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে এটি গ্রিনহাউস গ্যাস ও কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
সভার কার্যক্রমের শুরুতে সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বোর্ডের আলোচ্যসূচি এবং পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। এরপর বোর্ড সদস্যরা বিভিন্ন প্রস্তাবনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেন এবং সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
সভাপতির বক্তব্যে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, “বর্তমান সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, সবুজ জ্বালানির প্রসার এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা বর্তমান সময়ের অপরিহার্য দাবি। এই ধরনের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সেই লক্ষ্য অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
সবশেষে, মন্ত্রী বোর্ডের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত, স্বচ্ছ এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, জবাবদিহিতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।











