দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা হিসেবে চীনা ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ল্যাংগুয়েজ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার এক মহৎ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ইউজিসি কার্যালয়ে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এবং চীনের জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠককালে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব তথ্য জানান। বৈঠকে তিনি উল্লেখ করেন, আগামী তিন মাসের মধ্যেই এই ল্যাংগুয়েজ সেন্টারগুলোর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র চালু থাকলেও, ইউজিসির নতুন মহাপরিকল্পনায় আরও ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সুবিধা সম্প্রসারিত করা হবে।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে চীনা ভাষায় দক্ষতা অর্জন করলে শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় তারা এগিয়ে থাকবে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, বর্তমানে দেশে দক্ষ চীনা ভাষা শিক্ষকের এক তীব্র সংকট রয়েছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং পাঠদান পদ্ধতি আধুনিক করতে তিনি চীনের কারিগরি ও প্রশিক্ষণ সহায়তা কামনা করেন।
পাশাপাশি, দুই দেশের সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় করতে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলা ভাষা শিক্ষা চালুর একটি প্রস্তাব দেন তিনি। এর ফলে চীনা শিক্ষার্থীদের মাঝে বাংলা ভাষার প্রসার ঘটবে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি মনে করেন। বৈঠকে চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওফেং এবং চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ইউজিসির এই দূরদর্শী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।









