পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের চরম বিরোধের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গোলাগুলি এবং ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংস ঘটনায় জড়িত অস্ত্রধারী তিনজনকে সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করেছে পুলিশ। বর্তমানে তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান চলছে।
ঘটনাটি ঘটে রবিবার (৩০ আগস্ট) রাত পৌনে আটটার দিকে স্বামীবাগ মুন্সিরটেক জামে মসজিদের পাশের একটি সরু গলিতে। আকস্মিক এই হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন চা-দোকানি আলমগীর, পথচারী আশা আক্তার এবং একটি খাবারের দোকানের কর্মী সিয়াম। এছাড়া ঢাকা মহানগর বিএনপির (দক্ষিণ) সদস্য ওমর নবী বাবুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত রবিবার বিকেলে। গেন্ডারিয়ার রেললাইনসংলগ্ন করাতিটোলা এলাকা থেকে রাকিব, বিল্লাল ও রিফাত নামের তিন তরুণকে মাদক বিক্রির অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা আটক করেন। পরবর্তীতে তাদের ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির এক নেতার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাদের পুলিশের হাতে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলে মাদক চক্রের সাথে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। পুলিশ জানিয়েছে, তিন মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই নৃশংস হামলা চালানো হয়।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, তিন আসামিকে ধরিয়ে দেওয়ার পরপরই বিএনপির ওই কার্যালয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, যখন তরুণদের থানায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল, তখন ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ উপস্থিত হয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। হামলাকারীরা বিএনপির ওই নেতার কার্যালয়সহ আশপাশের আরও পাঁচটি দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ঘটনার সময় এলাকায় কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েন।
স্থানীয় এক মুদিদোকানি জানান, হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে তিনি দ্রুত নিজের দোকান বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হামলাকারী দলের অধিকাংশ সদস্যের হাতেই আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। পুলিশের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মাদক কারবারের আধিপত্য বিস্তার এবং নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাকে কেন্দ্র করেই এই সংঘাতের সূত্রপাত।
পুলিশ বিএনপির ওই কার্যালয়কে অপরাধস্থল বা 'ক্রাইম সিন' হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তল্লাশিতে কার্যালয়ের দরজা ও জানালায় গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে মোট ২০টি কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। ওসি মনিরুজ্জামান খান আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি, তবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তিন হামলাকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এদিকে, সোমবার সকালে সিআইডির একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সিআইডির পরিদর্শক সাইফুর রহমান জানান, তারা ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছেন এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।





















