রংপুরের আলোচিত চার খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের ডোপ টেস্টে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে চিকিৎসকদের মতে, নমুনা সংগ্রহে দীর্ঘ বিলম্ব হওয়ার কারণে এই ফলাফল এসেছে। হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন এবং গ্রেপ্তারের আট দিন পর গত রবিবার তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, যা মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত করার জন্য যথেষ্ট সময় নয় বলে মনে করা হচ্ছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ডা. রাশেদুল হক এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এমফিটামিনের মতো মাদকদ্রব্য রক্ত বা মূত্রে খুব দীর্ঘ সময় অবস্থান করে না। সাধারণত প্রস্রাবে এর উপস্থিতি পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত পাওয়া যায়, এরপর তা শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। যেহেতু অভিযুক্তরা সাত দিনের বেশি সময় ধরে আটক অবস্থায় ছিলেন, তাই তাদের নমুনায় মাদকের উপস্থিতি পাওয়া সম্ভব হয়নি। সাত দিনের বেশি সময় অতিবাহিত হলে এমফিটামিনের অস্তিত্ব শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
নমুনা সংগ্রহে এই বিলম্বের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী। তিনি জানান, ডোপ টেস্টের প্রক্রিয়াটি শুরু করতে প্রথমে অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে এবং এরপর আদালতের অনুমতি প্রয়োজন ছিল। আদালতের আবেদন বিবেচনা করে বৃহস্পতিবার আদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর টানা দুই দিন সরকারি ছুটি থাকায় প্রথম কার্যদিবসে অর্থাৎ রবিবার জেলগেট থেকে নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিশ্চিত করেন যে, সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করে এমফিটামিনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
এদিকে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। তবে আদালত পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়গুলো মাথায় রেখে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে আদেশ দেন। আদালত আসামিদের জেলগেটে দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর আরও কিছু নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেই তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই এবং অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। শুনানির সময় আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়নি, তবে লিগ্যাল এইডের আইনজীবীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাদের পক্ষে শুনানিতে যুক্ত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারির পর তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পুলিশ খুনের পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও বিস্তারিত রহস্য উদঘাটনে কাজ করে যাচ্ছে।





















