বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নাম ব্যবহার করে এলাকায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ উঠেছে মোঃ আবুল খায়ের শেখ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পোস্টমাস্টার পদে কর্মরত এবং জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও, দল থেকে তাঁকে আসন্ন নির্বাচনে কোনো প্রকার মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে জামায়াতের ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দাবি করে রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নে জামায়াত ইসলামী অন্য প্রার্থীকে দলের সমর্থন ও মনোনয়ন প্রদান করেছে। কিন্তু আবুল খায়ের শেখ দলের এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে এবং জামায়াতের নাম ভাঙিয়ে নিজের মনগড়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন।
অভিযোগে আরও প্রকাশ, সরকারি বা কোনো জনপ্রতিনিধিত্বমূলক পদে না থাকা সত্ত্বেও তিনি বেআইনিভাবে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর পরিদর্শনে যাচ্ছেন, যা আইন ও শাসনতান্ত্রিক নিয়মের পরিপন্থী।
এ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে 'জনপ্রিয় নেতা' হিসেবে জাহির করতে তিনি দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নের বাইরের বা ভিন্ন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের ছবি এনে নিজ ফেসবুক আইডিতে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য পোস্ট করছেন। স্থানীয় নাগরিকদের কোনো প্রকার অনুমতি না নিয়ে এবং তাঁদের বাদ দিয়ে অন্য মানুষের ছবি ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা তাঁকে বারবার এসব অপকর্ম থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করলেও তিনি তা তোয়াক্কা করছেন না।
এ বিষযয়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় শীর্ষ নেতারা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। দলের নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মোঃ আবুল খায়ের শেখ সংগঠনের সদস্য বা সমর্থক হলেও নির্বাচন কেন্দ্রিক তাঁর সাম্প্রতিক কোনো কর্মকাণ্ডের অনুমোদন দল দেয়নি।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আবুল খায়ের শেখকে জামায়াতের পক্ষ থেকে ইউপি চেয়ারম্যান পদে কোনো মনোনয়ন বা সমর্থন দেওয়া হয়নি। তিনি যা করছেন, তা সম্পূর্ণ তাঁর মনগড়া ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে করছেন। তাঁর কোনো প্রকার ব্যক্তিগত বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের দায়ভার দল বহন করবে না।
এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হতে এবং দলের নাম ভাঙানো ব্যক্তির বিষয়ে সতর্ক থাকতে এলাকাবাসীকে আহ্বান জানানো হয়েছে।





















