রাজনীতিতে পদার্পণের পর থেকেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের মুখপাত্র ও আলোচিত মডেল মেঘনা আলম। তবে তার অভিজ্ঞতার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটি হলো আক্রমণকারীদের দ্বিমুখী আচরণ। মেঘনা আলম দাবি করেছেন, যারা প্রকাশ্যে তাকে নিয়ে অপপ্রচার চালান এবং নেতিবাচক মন্তব্য করেন, তাদের অনেকেরই ব্যক্তিগত ইনবক্সে দেখা যায় সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। তার ভাষ্যমতে, প্রকাশ্যে আক্রমণ করার পর ব্যক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিদের আচরণ হয়ে ওঠে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
মেঘনা আলম এই বিষয়ে বিস্তারিত বলতে গিয়ে বলেন, ‘কোনো একজন লোক যখন আমাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাজে মন্তব্য করেন, তখন আমি তার প্রোফাইলে গিয়ে তার ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করি। এরপর তার ইনবক্সে গেলে দেখা যায়, সেই ব্যক্তিটিই আমার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন।’ তিনি আরও দাবি করেন, এই ধরণের ঘটনা কেবল একজন বা দুজনের ক্ষেত্রে নয়, বরং শত শত মানুষের ক্ষেত্রে ঘটেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক পথচলা, নারী হিসেবে রাজনীতিতে নানা প্রতিকূলতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে চলমান অপপ্রচার প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি।
মেঘনা আলমের মতে, রাজনৈতিকভাবে যখন প্রতিপক্ষ কাউকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা প্রায়ই ওই ব্যক্তির চরিত্র নিয়ে গুজব ছড়ানোর পথ বেছে নেয়। বিশেষ করে একজন নারী যখন রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন, তখন তার রাজনৈতিক যোগ্যতা, আদর্শিক অবস্থান বা নেতৃত্বের দক্ষতার চেয়ে তার বাহ্যিক চেহারা, পোশাক এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা বেশি হয়। এই প্রবণতাকে তিনি একটি গভীর সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘যারা আমাকে রাজনৈতিকভাবে হুমকি হিসেবে মনে করেন বা ভয় পান, তারা অনেক সময় আমার চরিত্র নিয়ে নানা ধরনের গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য থাকে আমি যেন ভয় পেয়ে চুপ হয়ে যাই এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়াই।’
‘প্রকাশ্যে নেতিবাচক, ইনবক্সে সাক্ষাতের প্রস্তাব’—এই বৈপরীত্য ব্যাখ্যা করতে মেঘনা আলম এক ব্যক্তির উদাহরণ দেন। তিনি জানান, ওই ব্যক্তি একসময় তাকে একটি পুরস্কারও দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেই ব্যক্তিকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখেছেন তিনি। তবে ওই ব্যক্তির ইনবক্সে গিয়ে মেঘনা আলম লক্ষ্য করেন, বিভিন্ন সময়ে ওই ব্যক্তি তার সঙ্গে দেখা করার এবং বিভিন্ন ধরণের অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। মেঘনা আলম স্পষ্টভাবে জানান, তিনি সেসব প্রস্তাব কখনোই গ্রহণ করেননি।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তখন আমার মনে হলো, একজন শক্তিশালী পুরুষকে প্রত্যাখ্যান করার কারণে পুরো গল্পটাই হয়তো এমন হয়ে গেছে। তিনি যে প্রত্যাখ্যানের শিকার হয়েছেন, সেটা জনগণের সামনে প্রকাশিত হলো না। বরং গল্পটাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হলো, যেন সমস্যাটা আমার।’ নারীর প্রত্যাখ্যানের কারণে তাকে আক্রমণের শিকার হতে হয়, এটি কোনো নতুন বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মেঘনা আলমের মতে, একজন নারী যখন কোনো পুরুষকে প্রত্যাখ্যান করেন, তখন তাকে আক্রমণ করা এবং তার চরিত্র খারাপ বলে প্রচার করা দীর্ঘদিনের একটি অসুস্থ সামাজিক চর্চা। আগে এর প্রকাশ ভিন্নভাবে হতো, এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে তা ভিন্ন রূপে সামনে আসছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে তিনি কেবল নেতিবাচকভাবে দেখছেন না। তার মতে, এই মাধ্যমটি নারীদের নিজেদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। ফলে অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি নারীরা এখন সাহসের সাথে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে পারছেন। রাজনৈতিক লড়াইয়ে তার নারী পরিচয়কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মেঘনা আলম অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘মিলিয়নবার।’ তিনি মনে করেন, যখন তিনি একজন রাজনীতিক হিসেবে নিজের ভিত্তি তৈরি করার চেষ্টা করছেন এবং আত্মপ্রকাশ করছেন, তখন তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নারী হিসেবে আঘাত করা হচ্ছে।
মেঘনা আলমের মতে, একজন নারী রাজনীতিতে প্রবেশ করলে তার রাজনৈতিক যোগ্যতার বদলে চেহারা ও পোশাককে সামনে আনাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এসব আক্রমণ তাকে দমাতে পারেনি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের কথা বলার সুযোগ থাকায় তার কণ্ঠ আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, ‘যে আমাকে আক্রমণ করেছে, তার ক্ষমতার খবরই এখন নেই। বরং আমার কণ্ঠ আজ আরও বেশি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে গেছে। এটাই এখনকার নতুন ব্যবস্থা।’

















