বেকারত্ব দূরীকরণ এবং শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের এক ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ সফল হয়েছে। জেলা প্রশাসনের বিশেষ আয়োজনে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এক জব ফেয়ারে তাৎক্ষণিকভাবে ৪৪৬ জন চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বাছাই করা আরও ১ হাজার ৫৮১ জনের কর্মসংস্থান আগামী এক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে। ফলে এই মেলাটির মাধ্যমে সব মিলিয়ে মোট ২ হাজার ২৭ জন বেকার তরুণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়ে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত জনসেবা চত্বরে দিনব্যাপী ‘জব ফেয়ার-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। এই বিশেষ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত হয়ে চাকরি পাওয়া কয়েকজন ভাগ্যবান তরুণ-তরুণীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেন এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই জব ফেয়ারে টাঙ্গাইলের শীর্ষস্থানীয় এনজিও, স্বনামধন্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মোট ৫১টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করতে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই সিভি সংগ্রহ করা হয়। মেলায় উপস্থিত হয়ে সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই মেলায় অংশ নিতে অনলাইন ও অফলাইনে সর্বমোট ১১ হাজার ৪২৭ জন চাকরিপ্রার্থী নিবন্ধন করেছিলেন। এর মধ্যে প্রাথমিক যাচাই ও তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ৪৪৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাকি ১ হাজার ৫৮১ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া আগামী এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২ হাজার ২৭ জনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি জেলার বেকার যুবকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘এটি একটি প্রাথমিক উদ্যোগ ছিল, তবে এর সাড়া অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। ইনশাআল্লাহ, আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই আয়োজনকে আরও বড় পরিসরে এবং আরও কার্যকরভাবে কীভাবে করা যায়, সেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমি নির্বাচনের আগেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, টাঙ্গাইলের কোনো শিক্ষিত যুবক যাতে বেকার না থাকে, সেই লক্ষ্যে আমি কাজ করব এবং সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের পথেই এই উদ্যোগ।’
জব ফেয়ারের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে। একজন শিক্ষিত ও দক্ষ মানুষ যাতে তার মেধার সঠিক মূল্যায়ন পায় এবং শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করার পরপরই কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ পায়, সেই অনুকূল পরিবেশ ও ক্ষেত্র তৈরি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। যারা আজকের মেলায় চাকরি পাননি, তাদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ যাদের নিয়োগ হয়নি, তাদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আপনাদের সিভি আমাদের কাছে জমা রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সবাইকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের জব ফেয়ার যদি সারা দেশে নিয়মিত আয়োজন করা হয়, তবে চাকরিপ্রার্থীদের চাকরির খোঁজে বিভিন্ন শহরে ছুটে বেড়াতে হবে না। একই ছাদের নিচে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হলে সময় ও শ্রম উভয়ই সাশ্রয় হবে। এই সাহসী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক শরীফা হক তাঁর বক্তব্যে জানান, অনেক শিক্ষিত তরুণ বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছে কর্মসংস্থানের সুযোগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এই সমস্যা সমাধানে তিনি প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেন। পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রীর পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতায় এই জব ফেয়ারের সফল আয়োজন সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই মেলার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থী বাছাই করার সুযোগ পেয়েছে, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন করে আত্মবিশ্বাস ও উৎসাহ সৃষ্টি করবে। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রেখে নিয়মিত জব ফেয়ার আয়োজন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।















