শাফায়াত হোসেন
পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস উপলক্ষে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) কে ঘিরে দেশজুড়ে নানা ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবন, আদর্শ, মানবিকতা ও শান্তির বার্তা স্মরণ করে বিভিন্ন স্থানে মিলাদ মাহফিল, ধর্মীয় আলোচনা, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী মাইজভাণ্ডার শরীফ দরবারে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে। এতে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে এতে প্রায় ৫৫ লাখ মানুষের সমাগমের দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবছরই ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মাইজভাণ্ডার শরীফে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষ মিলাদ, জিকির, ধর্মীয় আলোচনা ও দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন। পুরো এলাকা পরিণত হয় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ এক মিলনমেলায়।
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে আগমন করেন। তাঁর আগমনকে মুসলিম উম্মাহ মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত হিসেবে স্মরণ করে। ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মুসল্লিরা মহানবী (সা.) এর আদর্শ ও জীবনাদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।
মাইজভাণ্ডার শরীফের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজন সম্পৃক্ত রয়েছে। মাইজভাণ্ডার শরীফের হুজুর সৈয়দ মুজিবুর বশর মাইজভাণ্ডারী দীর্ঘদিন ধরে দিবসটি পালনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কারণে দরবারের অন্যান্য দায়িত্বশীলদের পাশাপাশি সাইফুদ্দিন মাইজভাণ্ডারীসহ সংশ্লিষ্টরা এসব আয়োজন পরিচালনা করছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ। তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
মুসল্লিরা মহানবী (সা.) এর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর দেখানো পথে জীবন পরিচালনার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।



















