রাজধানীর গাবতলী ও দারুস সালাম এলাকায় আইয়ুব আলীকে কেন্দ্র করে জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে, যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আইয়ুব আলী একে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গাবতলী ও বৈদারটেক এলাকার বেশ কিছু জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে একটি নির্দিষ্ট পক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ চলছে। আইয়ুব আলীর দাবি, বিতর্কিত এই জমিগুলো তিনি যথাযথ ক্রয়সূত্রে অর্জন করেছেন এবং তার কাছে এর স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় সব বৈধ কাগজপত্র ও দলিলপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। তবে এই জমির সঙ্গে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পরিবারের জীবন-জীবিকা এবং দীর্ঘদিনের বসবাসের বিষয়টি জড়িত থাকায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
আইয়ুব আলীর অভিযোগ, একটি বিশেষ চক্র তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার এবং তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। এই বিষয়ে তিনি বলেন, "কারও কাছে যদি আমার বিরুদ্ধে জমি-সংক্রান্ত কোনো সঠিক প্রমাণ বা বৈধ অভিযোগ থাকে, তবে তারা যেন আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।"
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের আইন ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল। তার মতে, আইন সবার জন্য সমান এবং তিনি নিজেও কোনোভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে নন। জমি নিয়ে কারও যদি কোনো প্রকৃত দাবি থাকে, তবে তা আদালতের মাধ্যমে এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
আইয়ুব আলীর অভিযোগের তালিকায় আরও কিছু গুরুতর বিষয় উঠে এসেছে। তিনি ওই এলাকার কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং গঠন, চাঁদাবাজি এবং জোরপূর্বক জমি দখল করার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনেছেন। তবে তিনি মনে করেন, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন যাতে প্রকৃত অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচিত হয়।
তিনি দেশের সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন সরেজমিনে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনাটি জনসমক্ষে তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, "যে ব্যক্তি প্রকৃত অপরাধী, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর আমি যদি কোনো ভুল বা অপরাধ করে থাকি, তবে আমার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমি প্রস্তুত।"
আইয়ুব আলী আরও জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও অন্যান্য মিথ্যা অভিযোগের বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি ন্যায়বিচার এবং সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। একজন হাজী হিসেবে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে অনুরোধ করেছেন, যেন তারা তার সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়ার পর তা যাচাই না করে বিশ্বাস না করেন। তিনি বলেন, "আপনারা এলাকায় খোঁজখবর নিন, দলিলপত্র যাচাই করুন এবং সত্যটি জানার চেষ্টা করুন। আমি শুধু ন্যায়বিচার এবং সত্যের প্রকাশ চাই।"
এদিকে, এই পুরো ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য শোনা এবং সরকারি রেকর্ড ও দলিলপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষকেই চূড়ান্তভাবে দোষী হিসেবে বিবেচনা না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।














