ধর্ম মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভিন্ন মতাদর্শের কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাপরিচালক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী। সম্প্রতি তার একটি লেখায় তিনি এই উদ্বেগের কথা ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে এমন কাউকে নিয়োগ দেওয়া উচিত, যার মতাদর্শ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মন্ত্রিসভায় নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ, রদবদল কিংবা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সম্পূর্ণ এখতিয়ার যে প্রধানমন্ত্রীর, সেই বিষয়টিকে যথাযথভাবে স্বীকার করেছেন মাওলানা নদভী। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে দেশের প্রথিতযশা আলেম-উলামা, পীর-মাশায়েখ এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতি ও প্রত্যাশার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী জানান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে একজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দাবি করেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মুসলমানের কাছে বিচ্ছিন্ন বা ভিন্ন হিসেবে বিবেচিত কোনো মতাদর্শের ব্যক্তিকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান না করাই সমীচীন হবে। তিনি তার লেখায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমান ঐতিহাসিকভাবে হানাফি মাজহাবের অনুসরণ করে চলেছেন। তার ভাষ্যমতে, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সাধারণ মুসলমানরা পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর বিধি-বিধান পালনের ক্ষেত্রে চার মাজহাবের যেকোনো একটির অনুসরণ করেন। শরিয়তের বিভিন্ন ব্যাখ্যাসাপেক্ষ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আলেমদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগকে তিনি ইসলামের এক অনন্য সৌন্দর্য হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রচলিত ধর্মীয় জীবনাচার ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে জোরালো মত দিয়েছেন তিনি। এই লক্ষ্যে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজন হানাফি মাজহাব অনুসারী ব্যক্তিকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মাওলানা নদভী। তিনি সতর্ক করে বলেন, ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই বিষয়ে যদি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে তা দেশের সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে সরকারের প্রতি ভুল বোঝাবুঝির পরিবেশ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।