সহবাস, স্বপ্নদোষ, ইচ্ছাকৃত বীর্যপাত এবং নারীদের ঋতুস্রাব বা নেফাস শেষ হওয়ার পর ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী গোসল করা ফরজ হয়ে থাকে। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ইবাদত এবং আমল সম্পাদনের জন্য এই পবিত্রতা অর্জন করা অপরিহার্য। সাধারণত যত দ্রুত সম্ভব ফরজ গোসল সম্পন্ন করা উত্তম বলে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গোসলের আগে দৈনন্দিন কাজ করা যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে নানা প্রশ্ন থাকে।

ইসলামি আলেমদের মতে, গোসল ফরজ হওয়ার পর নির্দিষ্ট পাঁচটি কাজ করা নিষিদ্ধ। এই কাজগুলো হলো— নামাজ আদায় করা, কাবার তাওয়াফ করা, মসজিদে অবস্থান করা, পবিত্র কোরআন স্পর্শ করা এবং কোরআন তেলাওয়াত করা। এই পাঁচটি কাজ ব্যতীত অন্য যেকোনো কাজ করা শরিয়ত অনুযায়ী বৈধ।

এই বিষয়ে একটি তাৎপর্যপূর্ণ হাদিস হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার মদিনার পথে তাঁর সঙ্গে রসুলুল্লাহ (স.)-এর সাক্ষাৎ হয়। সেই সময় আবু হুরায়রা (রা.) জানাবাতের (গোসল ফরজ) অবস্থায় ছিলেন। নিজেকে অপবিত্র মনে করে তিনি রসুলুল্লাহ (স.)-এর সামনে উপস্থিত হতে সংকোচ বোধ করেন এবং দূরে সরে যান। পরবর্তীতে গোসল সম্পন্ন করে তিনি পুনরায় নবীজীর (স.) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তখন রসুলুল্লাহ (স.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “আবু হুরায়রা, তুমি কোথায় ছিলে?” জবাবে তিনি বলেন, “আমি জানাবাতের অবস্থায় আপনার সঙ্গে বসা সমীচীন মনে করিনি, তাই চলে গিয়েছিলাম।” তখন নবীজী (স.) বললেন, “সুবহানাল্লাহ্! মুমিন কখনো নাপাক হয় না।” (বুখারি ২৭৯)। এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, জানাবাতের অবস্থায় মানুষ সামগ্রিকভাবে অপবিত্র হয়ে যায় না।

তবে অন্যান্য কাজ করার আগে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কথা হাদিসে এসেছে। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (স.) জানাবাতের অবস্থায় পানাহার কিংবা ঘুমানোর ইচ্ছা করলে নামাজের অজুর মতো করে অজু করে নিতেন (মুসলিম ৩০৫)। অর্থাৎ, ফরজ গোসলের আগে অজু করে নেওয়া একটি উত্তম আমল।

সম্প্রতি এক অনুসারীর প্রশ্নের জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ এই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। প্রশ্নটি ছিল— সহবাসের পর ফরজ গোসল করার আগে নারীরা কি ঘরের কাজ করতে পারবেন? উত্তরে শায়খ আহমাদুল্লাহ স্পষ্টভাবে জানান, ফরজ গোসল বাকি থাকা অবস্থায় কেবল নামাজ, তাওয়াফ, মসজিদে অবস্থান, কোরআন স্পর্শ এবং তেলাওয়াত— এই পাঁচটি কাজ নিষিদ্ধ। এই পাঁচটির বাইরে অন্য কোনো কাজ নিষিদ্ধ নয়। তাই কোনো নারী যদি ফরজ গোসলের আগে রান্নাবান্না করেন, গৃহস্থালির কাজ করেন কিংবা সন্তানকে দুধ পান করান, তবে তা সম্পূর্ণ বৈধ ও জায়েজ।

শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও উল্লেখ করেন যে, আমাদের সমাজে অনেক সময় নারীদের ওপর অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা আরোপ করা হয়, অথচ একই বিষয়ে পুরুষদের ক্ষেত্রে তেমন দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায় না। ধর্মীয় বিধান সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাবের কারণে অনেক ক্ষেত্রে ভুল ধারণা প্রচার করা হয়, যা নারীদের জন্য মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, যদিও ফরজ গোসল যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করা উত্তম, তবে বিশেষ প্রয়োজনে বা কাজের চাপে গোসলের আগে অজু করে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা যেতে পারে। আর যদি কোনো কারণে অজু না-ও করা হয়, তবে নিষিদ্ধ পাঁচটি কাজ ছাড়া অন্য কিছু করার কারণে কোনো গুনাহ হবে না।