মোঃ মিঠু মিয়া
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের ডুমুরগাছা গ্রামে প্রতিবন্ধী রায়হান খন্দকারকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট ও জখমের অভিযোগে দায়ের করা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের মামলা তুলে নিতে চাপ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৩টায় কাটাখালী পত্রিকা অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মোছা. আনজু আরা বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল গোবিন্দগঞ্জ থানায় ডাবলু মিয়া বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির গোবিন্দগঞ্জ থানার জিআর নম্বর ১৫৪/২০১৬।
অভিযোগে বলা হয়, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামি নান্নু মিয়া, সাইদুল ইসলাম, লাভলী বেগম ও বিপ্লবসহ তাদের সহযোগীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদী পক্ষকে বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে বাদী ডাবলু মিয়া, ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী রায়হান খন্দকার, আনজু আরা বেগমসহ সাক্ষীদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
ডাবলু মিয়ার দাবি, দীর্ঘদিন মামলা চলার পর গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি রিভিশন মামলা নম্বর ৪৯৩/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলার শুনানির জন্য আগামী ২ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, রিভিশন মামলা দায়েরের পর থেকে মূল মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ওপর মামলা তুলে নেওয়ার জন্য মানসিক ও সামাজিক চাপ বাড়ানো হয়েছে। মামলা প্রত্যাহার না করলে তাদের মারপিট ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
আনজু আরা বেগম অভিযোগ করেন, আসামিপক্ষের লোকজন রাস্তাঘাটে কিংবা একা পেলে মারপিট ও জখম করার হুমকি দিচ্ছেন। সর্বশেষ গত ১ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি বাদী ডাবলু মিয়ার বাড়ির গেটের সামনে গিয়ে গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে তিনি দাবি করেন। এ সময় মামলা তুলে না নিলে বাদী, প্রতিবন্ধী রায়হান খন্দকার ও সাক্ষীদের মারপিট ও জখম করে মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় ডাবলু মিয়া ও তার পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী রায়হান খন্দকারসহ মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানো, মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি এবং মারপিট ও হত্যার হুমকির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
তারা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।















