কামরুজ্জামান

অকালেই থেমে যাওয়া তিন সাংবাদিকের স্মৃতিতে ভারী হয়ে উঠেছিল উত্তরার সাংবাদিক অঙ্গন। সহকর্মীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় সাংবাদিক সাকিবুল ইসলাম মিঠু, রবিউল ইসলাম রাজু ও শিউলী আক্তার নিলুর রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ, দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে উত্তরা মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাব।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় উত্তরায় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের সদস্য, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং নিহত সাংবাদিকদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

উত্তরা মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবের সভাপতি এইচ আর হাবিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক এম এইচ মাকছুদ খান, দৈনিক রুদ্র বাংলার বার্তা সম্পাদক মিজান বিন নূর এবং প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এ আর খান মুরাদ। এ সময় প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্য ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি মানুষের কথা বলার এবং সমাজের অনিয়ম-অসংগতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর দায়িত্ব। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব সাংবাদিক অকালে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের স্মৃতি সাংবাদিক সমাজের কাছে সবসময় অম্লান হয়ে থাকবে। নিহত সাংবাদিকদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তাঁদের পাশে থাকারও আশ্বাস দেন বক্তারা।

পরে নিহত তিন সাংবাদিকের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে তাঁদের আত্মার শান্তি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের জন্য দোয়া করা হয়। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিক ও স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে আবেগঘন পরিবেশ।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই রাজধানীর উত্তরায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক সাকিবুল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম রাজু নিহত হন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোররাতে উত্তরার জসিম উদ্দিন এলাকার বিআরটি উড়ালসড়কের ঢালে একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী অবস্থায় তাঁরা দুর্ঘটনার শিকার হন। তাঁদের আকস্মিক মৃত্যুতে উত্তরার সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।

নিহতদের স্মরণে আয়োজিত এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; সহকর্মীদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে তাঁদের কর্মজীবন ও সাংবাদিকতার প্রতি দায়বদ্ধতার কথাও। বক্তারা সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

মিলাদ ও দোয়া শেষে এতিম শিশু, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে খাবার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় নিহত সাংবাদিকদের স্মরণে আয়োজিত এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।