পটুয়াখালীর বাউফলে এক স্থানীয় ব্যবসায়ীর কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যুবদল কর্মী সৈয়দ মো. সোহাগের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, মোটা অংকের এই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ওই ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাউফল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বাউফল থানায় অভিযোগকারী মো. নাইম হোসেন (৩০) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি উপজেলার পূর্ব কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় শৌলা তারের পোল বাজারের একজন ব্যবসায়ী। নাইম হোসেন সেখানে কীটনাশক বিক্রির পাশাপাশি ট্রলি গাড়ির ব্যবসা পরিচালনা করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কালাইয়া ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় কর্মী সৈয়দ মো. সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে নাইমের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা দিতে না পারায় প্রায় ২০ দিন আগে সোহাগ তার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে নাইমের কীটনাশকের দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তালা ভেঙে দোকানটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হলেও, সোহাগ ও তার সহযোগীরা নাইম ও তার বাবাকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি গত মঙ্গলবার নাইমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী নাইমের বাবা বাবুল চৌকিদার জানান, সোহাগ তাকে বাজারের একটি তেলের দোকানে ডেকে নিয়ে ট্রলি চালানো ও তরমুজ পরিবহনের বিনিময়ে টাকা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পরবর্তীতে ফোনেও তাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়। অন্যদিকে, অভিযুক্ত সৈয়দ মো. সোহাগ এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছেন। তার ভাষ্যমতে, বিগত মৌসুমে নাইমের এক আত্মীয়ের তরমুজ নাইমের ট্রলিতে পরিবহন করা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি পিস তরমুজের জন্য ১ টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও নাইম তা পরিশোধ করেননি। দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি তা সরাসরি অস্বীকার করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় যুবদল নেতাদের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গাজী গিয়াস ও সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম ফিরোজকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি। উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, ‘সৈয়দ মো. সোহাগ যুবদলের কর্মী কি না, তা আমার জানা নেই। বিষয়টি বিস্তারিত পরে জানানো যাবে।’ বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, থানায় লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















