মো: আরিফুল ইসলাম

পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়ায় ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, সেবা পেতে হয়রানি এবং গোপন কক্ষে দেখা করার পর কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের চণ্ডীপুর এলাকায় আয়োজিত এক গণশুনানিতে জেলা প্রশাসকের কাছে এসব অভিযোগ করেন ভূমি সেবা নিতে আসা একাধিক ব্যক্তি।

খানমরিচ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজে ইউনিয়ন ভূমি সেবা নিয়ে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়। এতে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম সাধারণ মানুষের বিভিন্ন প্রশ্ন, অভিযোগ ও সমস্যার কথা ধৈর্যসহকারে শোনেন।

গণশুনানিতে স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগকারী বলেন, খানমরিচ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে তাদের নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ ছাড়া অনেক কাজ করা হয় না। এমনকি ভূমি সেবা প্রত্যাশীদের গোপন কক্ষে দেখা করার পর কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন কয়েকজন।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘসূত্রতা ও নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। এসব অভিযোগ তুলে তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

একপর্যায়ে গণশুনানিতে স্থানীয়রা ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা হুমায়ুনের বদলির দাবি তোলেন। এ সময় উপস্থিত সাধারণ জনগণ করতালির মাধ্যমে ওই দাবির প্রতি সমর্থন জানান।

গণশুনানিতে উত্থাপিত অভিযোগ ও স্থানীয়দের বিভিন্ন প্রশ্ন মনোযোগ দিয়ে শোনেন জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম। পরে তিনি অভিযোগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, জনগণের উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং আগামীতে এসব সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ভূমি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা অনিয়মের শিকার না হন, সে জন্য প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে গণশুনানিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এ সময় ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান, খানমরিচ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন সাগর,খানমরিচ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের রানাসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

গণশুনানিতে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা হুমায়ুনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, গণশুনানিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষের সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত হবে।