বিরোধী দলের আসন্ন লংমার্চকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে নাশকতা চালিয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, আওয়ামী লীগ বর্তমানে সরাসরি কোনো কর্মসূচি করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেললেও, সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে বিরোধী দলের কর্মসূচিতে প্রবেশ করে রাষ্ট্র ও জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টির ছক কষছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি বিস্তারিত পোস্টের মাধ্যমে এসব কথা প্রকাশ করেন রাশেদ খাঁন। ওই পোস্টে তিনি বিগত ১৬ বছরের শাসনকাল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'প্রশাসন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরকে যে আওয়ামীকরণ করা হয়েছিল, সেই আওয়ামী জঞ্জালদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই।' তবে তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, রাষ্ট্রের এই 'আওয়ামী জঞ্জাল' পরিষ্কার করে দেশ পুনর্গঠনে বিরোধী দলের কোনো কার্যকর বা গঠনমূলক মনোযোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, বরং বিরোধী দল এমন কিছু হঠকারী ও অবিবেচনাপ্রসূত কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে, যা মূলত আওয়ামী লীগের পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার বা তাদের ফিরে আসার পথ তৈরি করে দেবে। তিনি তথ্যের বরাত দিয়ে বলেন, 'তথ্য পাওয়া যাচ্ছে যে, বিরোধী দলের লংমার্চকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ বিশেষ ছক কষছে। যেহেতু আওয়ামী লীগ এখন আর নিজস্ব ব্যানারে বড় কোনো আন্দোলন করার সক্ষমতা রাখে না, তাই তারা সাধারণ মানুষের বেশে বিরোধী দলের লংমার্চের ভেতরে ঢুকে পরিকল্পিতভাবে নাশকতা চালিয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে।'

লংমার্চের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। ঢাকা থেকে রংপুরের দূরত্ব প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। এই বিশাল দীর্ঘপথের দুই পাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকলেও সেখানে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, 'পরিস্থিতি বর্তমানে এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, হয়তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী দুর্বৃত্তদের ষড়যন্ত্র থেকে বিরোধীদলের কর্মসূচির নিরাপত্তা দিতে সরকারি দলের লোকজনকেও পাহারা হিসেবে বসাতে হতে পারে।'

এমন পদক্ষেপের পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ যেকোনো অঘটন ঘটালেও তার দায় বর্তমান বিরোধী দল বা বিএনপি সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি শহীদ ওসমান হাদির হত্যার ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। রাশেদ খাঁন বলেন, 'আওয়ামী লীগ সেই সময়ও একই কৌশল অবলম্বন করেছিল, যদিও তখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল না।'

অবশেষে পরিস্থিতি ও বর্তমান বাস্তবতাকে বিবেচনা করে বিরোধী দলকে অত্যন্ত সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, 'সবমিলিয়ে, বিরোধী দলের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, বাচ্চাদের মতো নাছোড়বান্দা না হয়ে পরিস্থিতি ও বাস্তবতা বুঝে কর্মসূচি গ্রহণ করুন। নতুবা আপনাদের এই অবিবেচনাপ্রসূত ভুলের চরম খেসারত হয়তো পুরো জাতিকে দিতে হবে।'