চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অভিনব ও কৌশলী পদ্ধতিতে স্বর্ণ পাচারের চেষ্টাকে সফল হতে দেয়নি কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। মাসকাট থেকে আসা এক যাত্রীর কাছে স্কচটেপে মোড়ানো স্বর্ণসদৃশ পেস্ট এবং প্যান্টের পকেটে লুকিয়ে রাখা ৩৫ পিস স্বর্ণালংকারসহ মোট ৫৩১ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এই স্বর্ণ আটক করা হয়।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সিআইআইডি (CIID) টিম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকারী মাসকাট থেকে আসা সালামএয়ারের ফ্লাইট OV 0401-এর যাত্রী মোহাম্মদ হাসান মুরাদের সন্দেহজনক আচরণের প্রেক্ষিতে তল্লাশি শুরু করে। কাস্টমস হলরুমে যাত্রীটির ব্যাগ ও দেহ তল্লাশি করার সময় দেখা যায়, তাঁর ব্যাগের ভেতরে অত্যন্ত নিপুণভাবে স্কচটেপ দিয়ে পেস্ট আকারে স্বর্ণসদৃশ কিছু বস্তু মোড়ানো রয়েছে। সন্দেহজনক এই বস্তুটির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য স্বর্ণ কারিগরের সহায়তা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রক্রিয়াকরণের পর দেখা যায়, ওই পেস্টটি আসলে ২৪ ক্যারেটের খাঁটি স্বর্ণ এবং এর ওজন ৪২৫ গ্রাম।
তল্লাশি চলাকালীন আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। সন্দেহভাজন ওই যাত্রীর প্যান্টের পকেট থেকেও আরও ১০৬ গ্রাম ওজনের ৩৫ পিস বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে আটককৃত স্বর্ণের মোট ওজন দাঁড়িয়েছে ৫৩১ গ্রাম। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ও শুল্ক ও কর মিলিয়ে মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪১ হাজার ৫৫৫ টাকা।
স্বর্ণ পাচারের এই ঘটনায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ হাসান মুরাদের বিরুদ্ধে পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই স্বর্ণ চোরাচালানের পেছনে আর কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বর্ণের প্রকৃত উৎস এবং এর গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য একটি বিশেষ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।















