রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে ইনসাফ, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ক্ষমতার কার্যকর ভারসাম্য সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বিরোধী দল যেন একে অপরের প্রতিপক্ষ না হয়ে গণতন্ত্রের পরিপূরক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে, সে ধরনের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। সে লক্ষ্যেই কাজ করছেন তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার পাটারিরহাট ইউনিয়নের বোয়ালিয়া এলাকায় 'জুলাই যোদ্ধা শহীদ মো. মাজহারুল ইসলাম (মাসরুর)' সড়কের উদ্বোধন শেষে এক সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ ও লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান এসব কথা বলেন।
উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এই সভার আয়োজন করেন।
হুইপ নিজান বলেন, আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে ইনসাফ, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে পূর্বঘোষিত ২৭ দফার সঙ্গে আরও চারটি নতুন দফা যুক্ত করে একটি সর্বদলীয় রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। দেশের তরুণ সমাজ, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে গ্রামে গ্রামে এই রাষ্ট্র সংস্কারের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের নীতিমালা অনুসরণ করে সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনোভাবেই দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না। মাদক নির্মূল এবং সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ তরুণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই তরুণদের সম্পৃক্ত করেই হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি খাতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন এবং শহীদ মিনারের পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির আহ্বান জানিয়ে হুইপ নিজান আরও বলেন, সরকার ভালো কাজ করলে তা সমর্থন করা হবে, আর ভুল বা অন্যায় করলে সেই সমালোচনাও আমরা সাদরে গ্রহণ করবো। দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতার লোভ ও একনায়কতান্ত্রিক প্রবণতার অবসান ঘটিয়ে জবাবদিহিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
এর আগে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের স্পন্দন হলরুমে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরাফাত হোসাইন, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদুল আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইকতারুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম দিদার হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল খায়ের, কমলনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক মুছাকালিমুল্লাহসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আইনশৃঙ্খলা সভায় বক্তারা নদীভাঙন এলাকায় খাজনা আদায় পুনরায় চালু, তহশিল অফিসে খাজনার রশিদে অনিয়ম বন্ধ, নামজারিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং মাদক ও চুরির ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা জোরদার করার আহ্বান জানান। এছাড়া অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের হয়রানি, বাজারে নকল ও ভেজাল ওষুধ বিক্রি বন্ধ এবং হাজিরহাটের জারিরদোনা খাল দখলমুক্ত ও পুনঃখননের বিষয়গুলোও সভায় তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে বজ্রপাতে নিহত পরিবারের সদস্যদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া অসহায় ও দুস্থদের মাঝে সেলাই মেশিন, ঢেউটিন ও হুইলচেয়ার এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি অনুদানের চাল ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেন প্রধান অতিথি।






