জার্মানির বায়ার্ন অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণে, প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রিয়ার সীমান্তবর্তী মনোরম আলগয় শহরে অনুষ্ঠিত হলো ১৯তম আন্তর্জাতিক প্যানারোমা দূরপাল্লার ম্যারাথন। পাহাড় আর পর্বতসমৃদ্ধ এই চ্যালেঞ্জিং প্রতিযোগিতায় লাল-সবুজের পতাকাকে সমুন্নত রেখে অংশ নিলেন অভিজ্ঞ দৌড়বিদ শিব শংকর পাল। এটি ছিল তার ক্রীড়া জীবনের এক অনন্য মাইলফলক, কারণ এটি ছিল তার ব্যক্তিগত ১৪২তম আন্তর্জাতিক ম্যারাথন।

স্থানীয় সময় রবিবার (৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই ম্যারাথনটি জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার সীমান্তবর্তী সমতল ভূমি এবং আল্পস পর্বতমালার এক অসাধারণ সমন্বয়ে সাজানো ছিল। মোট ৪২ দশমিক ৩ কিলোমিটারের এই বিখ্যাত দৌড় শুরু হয় আলগয় শহরের প্রাণকেন্দ্র জনথফেনের ইমেন্সস্ট্যাডার সড়ক থেকে। এরপর হুইটেরবার্গ, ওয়ার্ল্ডকাপহুইটে, ব্যার্গহাউস সোয়াবেন, ফ্রাইবুর্গার আলপে, লকবাখটাল এবং বলস্টারলাঙ্গ চৌরাস্তাসহ বেশ কিছু আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর পার্বত্য পয়েন্ট অতিক্রম করে দৌড়বিদরা পৌঁছান শহরের প্রধান কেন্দ্র স্টাডিওনভেগে।

সাধারণত পাহাড়ি উঁচু-নিচু ট্র্যাক পাড়ি দেওয়া যেকোনো দৌড়বিদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ক্লান্তিকর। সমতলের তুলনায় পর্বতে দৌড়ানো বরাবরের মতোই অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। তবে দেশের লাল-সবুজের পতাকা হাতে নিয়ে অভিজ্ঞ শিব শংকর পাল ছিলেন বরাবরের মতোই অবিচল এবং আত্মবিশ্বাসী। দুর্গম পথে দম ফেলার কষ্ট থাকলেও তিনি দমে যাননি; বরং দেশের গৌরবের কথা চিন্তা করে দৃঢ় সংকল্পের সাথে ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করেন। উল্লেখ্য, আলগয়ের এই ম্যারাথনটি শিব শংকরের জন্য বরাবরই সৌভাগ্যের। এর আগেও তিনি বেশ কয়েকবার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সফলতার সাথে দৌড় শেষ করেছেন।

১৯৬৫ সালে ঢাকার নবাবগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা শিব শংকর পাল বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এক পরিচিত মুখ। এই বিশেষ মুহূর্তে তার পাশে থেকে ব্যাপক উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যোগান তার স্ত্রী শিখা শংকর পাল, সন্তান মাক্সি, দিব্য ও ত্রয়ীসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

ম্যারাথন শেষে আবেগঘন কণ্ঠে শিব শংকর পাল বলেন, "আমি বর্তমানে জার্মানিতে বসবাস করলেও আমার হৃদয়ে সবসময়ের মতোই বাংলাদেশ মিশে আছে। এই দেশ আমার জন্মভূমি, তাই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে লাল-সবুজের পতাকাকে গর্বের সাথে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পারা আমার জন্য পরম আনন্দের। মনে রাখতে হবে, এই দেশ আমাদের সবার। আমি চাই আন্তর্জাতিক ম্যারাথনের মাধ্যমে বিশ্ববাসী বাংলাদেশকে একটি ইতিবাচক দেশ হিসেবে জানুক। দেশের কল্যাণেই আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ অবদান রাখা, যা আমি গর্বের সাথে করে যাচ্ছি।" সামনে তার ১৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যারাথনের মাইলফলক অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে, যার জন্য তিনি সবার শুভকামনা প্রত্যাশা করেন।