মোঃ মমিন আলী
জানা গেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো নিহতদের সংখ্যা ও পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।সৌদি আরবে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ১২ জন এবং নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পাঁচজন রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে
রোববার (৯ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সৌদি আরবে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার তথ্য তিনি জেনেছেন। তবে নওগাঁ কিংবা দেশের অন্য কোনো জেলার কতজন নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে যাচাই-বাছাই শেষে নিহতদের সংখ্যা ও পরিচয় নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ১৭ বাংলাদেশির মধ্যে ১২ জন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তাঁরা উপজেলার গন্ডগোহালি, ডুবাই, বৈঠাখালি, খনজোর, পারকসুন্দা, দিঘিরপাড়সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। অপর পাঁচজন পার্শ্ববর্তী নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা গ্রামের বাসিন্দা বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হওয়ার খবর স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। নিহতদের মধ্যে আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের গুফফার প্রামানিক এবং তাঁর দুই ছেলে মহুন প্রামানিক ও সুমন প্রামানিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া একই ঘটনায় জাননার ছেলে রুবেল হোসেন, ফজলুর ছেলে কলি প্রামানিক, সাহাগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে ফরিদ শেখ, বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের মৃত বাদলের ছেলে সুমন, চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ, মৃত রুহুলের ছেলে সুমন এবং পাচুপুর ইউনিয়নের পারকসুন্দা গ্রামের জলিল নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে এসব নাম ও পরিচয় এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করে নিশ্চিত করা হয়নি।
স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম
সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিদের মধ্যে এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। যাঁদের স্বজন ওই কারখানায় কর্মরত ছিলেন, তাঁরা তাঁদের প্রিয়জনের খবর জানতে ব্যাকুল হয়ে পড়েছেন।
সৌদি আরবে একই কারখানায় কর্মরত এবং বর্তমানে ছুটিতে থাকা আত্রাই উপজেলার মহোনঘোষ গ্রামের জহরুল ইসলাম স্থানীয়দের কাছে অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের বিষয়ে তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই নিহতদের মধ্যে আত্রাইয়ের একাধিক গ্রামের বাসিন্দা থাকার বিষয়টি জানা গেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে চলছে তথ্য যাচাই
নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সৌদি আরবে সোফা তৈরির কারখানায় আগুনের ঘটনায় বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর তিনি পেয়েছেন। তবে নওগাঁ বা দেশের অন্য কোনো জেলার কতজন নিহত হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। সোমবার সকালে যাচাই শেষে নিহতদের সংখ্যা ও পরিচয় নিশ্চিত করে জানানো সম্ভব হবে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সরকারি ও কূটনৈতিক সূত্রে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকৃত সংখ্যা ও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা এবং নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা।











