মাফিকুল ইসলাম

দারিদ্র্য ও অসহায়ত্বের সঙ্গে সংগ্রাম করে চলা শুকতারা প্রিয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। সংবাদমাধ্যমে পরিবারটির দুর্দশার চিত্র প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তিনি সরেজমিনে তাদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন।

সম্প্রতি পরিবারটির অসচ্ছলতার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। এতে জানা যায়, জরাজীর্ণ ঘরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শুকতারা প্রিয়া ও তার পরিবার। নিত্যদিনের অভাব-অনটনের পাশাপাশি শিশুদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা নিয়েও রয়েছে নানা অনিশ্চয়তা।

খবরটি নজরে আসার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিবারটির বিষয়ে খোঁজ নেন। পরে তিনি সরেজমিনে তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের জীবনযাপন ও সমস্যার বিষয়ে বিস্তারিত অবগত হন।

এ সময় ইউএনও পরিবারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। পাশাপাশি শিশুদের পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরিবারের খাদ্য ও অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজনের বিষয়েও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

স্থানীয়রা বলেন, অসহায় একটি পরিবারের দুর্দশার কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রশংসনীয়। সরকারি কর্মকর্তাদের এ ধরনের মানবিক ভূমিকা সমাজের অসহায় মানুষের জন্য আশার আলো তৈরি করে।

পরিবারটির সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দুঃসময়ে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সরেজমিনে বাড়িতে এসে তাদের খোঁজ নেওয়া এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুকতারা প্রিয়ার পরিবারের মতো অসহায় পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষা ও পরিবারের স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এতে পরিবারটি দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবে।