সাধন সাহা জয়
সংসারের অভাব আর অসুস্থ বাবার সেলাই মেশিনের সামান্য আয়ের সাথে লড়াই করে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী প্রান্ত দেবनाथ। তবে ভালো ফল করেও কলেজ ভর্তি ও পড়াশোনার খরচ চালানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল তার সামনে।
অবশেষে এই অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন।
এর আগে গত ২০/২১ আগস্ট জাতীয় কয়েকটি প্রিন্ট মিডিয়াতে ‘ফার্মেসি সামলে বইয়ে চোখ, প্রান্ত পেল জিপিএ ৫’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তারিকুল ইসলামের নজরে আসে।
আজ ২৩ আগস্ট দুপুরে ইউএনওর রুমে এই চেক প্রদান করা হয়। এরপরই তিনি প্রান্তের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নেন এবং তার সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।
জানা যায়, অসুস্থ বাবার চিকিৎসার খরচ ও চার সদস্যের সংসার সামলানোর পাশাপাশি নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে কাজ করতেন প্রান্ত দেবনাথ। কাজের ফাঁকেই চলেছে তার পড়াশোনা। শত প্রতিকূলতা জয় করে তার এই কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল এলাকায় বেশ প্রশংসিত হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনও মো. তারিকুল ইসলাম প্রান্তের এই সংগ্রামের গল্প জেনে তার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন এবং উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে তাকে সহযোগিতা প্রদান করেন। উপজেলা প্রশাসনের এমন মানবিক পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রান্ত ও তার পরিবার।
প্রান্তের মতো সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা সমাজের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের একটি বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।















