বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নিলেন রুহুল কবির রিজভী। রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে দলের এই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করেন। তার এই আগমনে কার্যালয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা এবং ১২ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ তার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং আন্তরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনেক নেতা-কর্মী তাকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান এবং নতুন দায়িত্বের জন্য শুভকামনা ব্যক্ত করেন।

দাপ্তরিক কাজে যোগ দেওয়ার আগে সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রিজভী। নয়াপল্টন কার্যালয়ে আসার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এই কার্যালয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং তিনি সব সময়ই এখানে যাতায়াত করেন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার পর তার এই যাতায়াত বা সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি, বরং এই কার্যালয়ের সঙ্গে তার দূরত্ব এক বিন্দুও বাড়েনি।

এই সময় তার পাশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র ড. মাওলানা মুফতি মহীউদ্দিন ইকরাম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ শামসুদ্দিন পারভেজ এবং ইউনাইটেড লিবারেল পার্টির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

বিএনপির এই নেতার সঙ্গে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং অত্যন্ত আবেগের। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থাকাকালীন ২০১৫ সাল থেকেই তিনি নিয়মিত এই কার্যালয় থেকে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নেতাকর্মীদের ব্যাপক গ্রেপ্তারের মুখে নিরাপত্তাগত ও সাংগঠনিক কারণে তিনি নয়াপল্টন কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় একটি ছোট কক্ষে অবস্থান শুরু করেন। সেখানে তিনি থাকা, খাওয়া এবং ঘুমানোর সব ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়ার পর তিনি আর নিজের বাসায় ফেরেননি। ওই সময় নয়াপল্টনের কার্যালয়টিই হয়ে ওঠে তার প্রধান কর্মস্থল ও অস্থায়ী আবাসস্থল।

দীর্ঘ ২৫ মাস জেল খাটার পর মুক্তি পেয়ে তিনি মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরে যান। হিসাব অনুযায়ী, একটানা ৭৮৭ দিন বা প্রায় দুই বছর দুই মাস তিনি নয়াপল্টনের কার্যালয়ে অবস্থান করেছিলেন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সঙ্গে তার সেই আত্মিক ও সাংগঠনিক সম্পর্ক এখনো অটুট রয়েছে। নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর রোববার প্রথমবারের মতো সেখানে এসে দাপ্তরিক কাজ করার মাধ্যমে তিনি সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি শুধু দাপ্তরিক কাজই নয়, বরং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করতে এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়কেন্দ্রিক দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বদ্ধপরিকর। তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের মতে, নয়াপল্টন কার্যালয়টি রিজভী সাহেবের কাছে কেবল একটি অফিস নয়, বরং এটি তার ভালোবাসার একটি ঠিকানা। তাই সুযোগ পেলেই তিনি এই প্রিয় আঙিনায় ফিরে আসেন এবং দলীয় কার্যক্রম তদারকি করেন।