ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, ঘুষ এবং মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী ও বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তিনি এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ‘হারাম’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সভায় রাশেদ খান স্পষ্ট ভাষায় জানান, আজকের পর থেকে কালীগঞ্জের কোনো সরকারি দপ্তরে ঘুষ বা দুর্নীতির কোনো স্থান থাকবে না। তিনি বলেন, ‘ঘুষের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই এলাকায় থাকতে পারবেন না। এ বিষয়ে আমাদের নীতি হলো জিরো টলারেন্স। তাই কালীগঞ্জে ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসা এখন থেকে সম্পূর্ণ হারাম ঘোষণা করা হলো।’
গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘আমি রাশেদ খান নিজে যদি কোনো অন্যায়ের সাথে জড়িত থাকি, তবে সাংবাদিকেরা নিঃসঙ্কোচে তা মিডিয়াতে প্রকাশ করবেন। একইভাবে অন্য কোনো নেতা জড়িত থাকলেও তথ্য-প্রমাণসহ নিউজ করুন। সাংবাদিকদের শতভাগ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।’
বর্তমান সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার কোনোভাবেই ‘মব’ বা উচ্ছৃঙ্খল গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। মব কালচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া বেসামরিক কোনো ব্যক্তির দ্বারা পরিচালিত ‘সালিশ বাণিজ্য’ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, কেউ অফিস খুলে অবৈধ সালিশ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তবিবুর রহমান মিনি, সাবেক ছাত্রনেতা হাফিজুর রহমান, কালীগঞ্জ থানার ওসি কবির হোসেন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সেকেন্দার আলী এবং বিএনপি নেতা হামিদুল ইসলামসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।



















