মোঃ সোহরাব আলী
পঞ্চগড় জেলার পাঁচ উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহ ১৭০ টি চিকিৎসকের পথ শূন্য থাকায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। জানা গেছে, পঞ্চগড় সিভিল সার্জন কার্যালয়, আধুনিক সদর হাসপাতাল ও পাঁচ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২৪৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৭২ জন। তবে বাস্তবে কর্মস্থলে রয়েছেন ৬৪ জন। ফলে জেলার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিকিৎসকের ১৭৪টি পদই শূন্য রয়েছে।
চিকিৎসক সংকটের কারণে মেডিসিন, অর্থোপেডিক্স, নাক-কান-গলা, চক্ষু ও গাইনি বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই।
এই বিষয়ের আরও খবর:
ডাকাত ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত যুবক হাসপাতালে, আটক ১
ঝালকাঠি পৌরসভার সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে নাগরিক সংলাপ
এতে এসব বিভাগের রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকে রংপুর, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
পঞ্চগড় সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের ৬৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১৯ জন। এখানে শূন্য রয়েছে ৪৪টি পদ।
আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪০টি পদের বিপরীতে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ৭ জন। শূন্য রয়েছে ৩৩টি পদ। বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪২টি পদের মধ্যে কর্মরত ২০ জন। সেখানে ২২টি পদ শূন্য রয়েছে।
কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে দুজন সরকারি আদেশে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ৪৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১০ জন। এখানে ৩৪টি পদ শূন্য রয়েছে। তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪০টি পদের বিপরীতে চিকিৎসক রয়েছেন ৮ জন। শূন্য রয়েছে ৩১টি পদ।
এ ছাড়া পঞ্চগড় সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে ১৪টি পদের বিপরীতে চিকিৎসক রয়েছেন ৬ জন। শূন্য রয়েছে ৮টি পদ। সিভিল সার্জন কার্যালয়ে চিকিৎসকের তিনটি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন একজন। সেখানে দুটি পদ শূন্য রয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার শূন্য পদগুলোর মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্টের চারটি, জুনিয়র কনসালট্যান্টের ৪৮টি এবং মেডিকেল অফিসার/সহকারী সার্জনের ১২১টি পদ রয়েছে।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে দুই চিকিৎসক কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলছে। একজন ২০২৫ সালের ১২ মার্চ থেকে এবং অপরজন প্রায় দেড় বছর ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ ছাড়া একজন চিকিৎসক দুই মাসের ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণে রয়েছেন, একজন সাময়িক বরখাস্ত এবং আরেকজন সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মরত আছেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এ পদে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সাময়িক বরখাস্ত থাকায় নতুন করে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে জেলার সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে।
পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। সদর হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তিনিও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। চলতি মাসে কিছু চিকিৎসক দেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, মেডিসিন, অর্থোপেডিক্স, নাক-কান-গলা, চক্ষু ও গাইনি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।















