রহমত আরিফ
ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি গ্রামে এক রহস্যময় বন্যপ্রাণীর আকস্মিক ও হিংস্র হামলায় অন্তত ১০ জন মানুষ আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত ৭টার দিকে উপজেলার সহোদর, দোশিয়া ও বুড়িপুকুর গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। প্রাণীটির অতর্কিত আক্রমণে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এটিকে হায়না বলে দাবি করলেও, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রাণীটির সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি।
আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতের খাবারের পর গ্রামের সাধারণ জীবনযাত্রা চলছিল। কেউ বাড়ির আঙিনায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, আবার কেউ স্থানীয় চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে আচমকা একটি বন্যপ্রাণী লোকজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রাণীটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে একের পর এক ব্যক্তিকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে গুরুতর আহত করে। শুধু প্রাপ্তবয়স্করাই নন, প্রাণীটি কয়েকটি বাড়িতে ঢুকে শিশু এবং গৃহপালিত ছাগলের ওপরও হামলা চালায়, যা গ্রামবাসীদের মনে গভীর ভীতির সৃষ্টি করেছে।
আহতদের মধ্যে বুড়িপুকুর গ্রামের ময়রমা (৭৫), জমেলা (৭০), আরিফ, মশিউর ও মকবুলের নাম জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই মুখ খুলছেন না, ফলে আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বুড়িপুকুর গ্রামের বাসিন্দা আল মামুন বলেন, "প্রাণীটি ছিল অত্যন্ত হিংস্র। মানুষ দেখলেই সে তেড়ে গিয়ে কামড়ে দিচ্ছিল। আমরা যখন সবাই মিলে সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে ধাওয়া করি, তখনই সেটি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।"
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একটিমাত্র প্রাণীই বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে এই ধারাবাহিক হামলাগুলো চালিয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, "আহতদের ক্ষতস্থানগুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি হায়না-জাতীয় কোনো বন্যপ্রাণীর কামড় হতে পারে।" তিনি আরও জানান, আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন প্রদান করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিনের পাশাপাশি অ্যান্টি-র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিনও প্রয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং গ্রামগুলোতে heightened সতর্কতা বিরাজ করছে।









